10/17/2026 ৪৫তম বিসিএসের গেজেটে নাম নেই সানি মেরাজের, ক্যানসারে আক্রান্ত বাবাকে জানাতে পারছেন না দুঃসংবাদ
odhikarpatra
১৬ October ২০২৬ ১৬:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
দীর্ঘ প্রস্তুতি, একের পর এক পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ—সবকিছুর পরও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম নেই। অন্যদিকে বাবা লড়ছেন ফুসফুসের চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারের সঙ্গে। একদিকে অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, অন্যদিকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—দুই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন ৪৫তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত সানি মেরাজ জিহান।
কুষ্টিয়ার বাসিন্দা সানি মেরাজ জিহান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর দাবি, ৪৫তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে তাঁর নাম আসেনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ৪৫তম বিসিএসে ১ হাজার ৭০২ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেটে নাম না থাকা প্রার্থীদের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বাবার ক্যানসার, ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে সানি মেরাজ জিহান জানিয়েছেন, তাঁর বাবা মো. কারিমুল ইসলাম ফুসফুসের চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগটি হাড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি নিতে হচ্ছে তাঁর বাবাকে।
সানির বর্ণনায়, বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার উদ্বেগজনক ফলাফল তাঁকে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় রাখছে। অসুস্থতার মধ্যেও বাবা তাঁকে নিজের ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিতে এবং বিদেশে পিএইচডি করতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু বাবার পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সানি। তাঁর ভাষ্য, বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর তিনি বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন—পিএইচডি না করলেও চলবে।
এখন সেই সুপারিশের পরও গেজেটে নাম না আসায় কীভাবে বাবাকে বিষয়টি জানাবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। অধিকার পত্র ডটকমের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় সানি লিখেছেন, ‘বাবাকে এখনো জানাতে পারিনি যে আমার নাম গেজেটে আসেনি।’
দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে নাম নেই
সানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০১৯ সালে রুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০২৩ সালে সোনালী ব্যাংকে অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে ব্যাংকটির সিনিয়র অফিসার পদেও সুপারিশ পেয়েছিলেন, তবে সেখানে যোগ দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪১তম বিসিএসে নবম গ্রেডের নন-ক্যাডার পদে ইন্সট্রাক্টর হিসেবে সুপারিশ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন সানি। তাঁর দাবি, ৪৫তম বিসিএসে গণপূর্ত ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় সেই প্রত্যাশা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
নিজের বক্তব্যে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো। তবে তাঁর গেজেটে নাম না আসার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
৫৬ জন বাদ পড়ার দাবি, মানববন্ধনের ঘোষণা
সানি মেরাজ জিহানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মতো আরও ৫৫ জনসহ মোট ৫৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত গেজেটে আসেনি বলে তাঁরা দাবি করছেন। তাঁর কাছে ওই প্রার্থীদের মধ্যে ৪৬ জনের নাম ও ক্যাডারের তথ্য রয়েছে।
তবে এ সংখ্যার বিষয়ে সতর্কতা জরুরি। ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত *বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের* এক প্রতিবেদনে ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা ১০৫ বলা হয়েছে। ফলে সানির উল্লেখ করা ৫৬ জনের তালিকাটি বৃহত্তর বাদ পড়া প্রার্থীদের তালিকার অংশ কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সানি জানিয়েছেন, গেজেটে বাদ পড়া প্রার্থীদের পক্ষে আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির জন্য অনুমতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তবে অনুমতিপত্রের বিষয়বস্তু ও কর্মসূচির চূড়ান্ত অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আলাদাভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১৭০২ জন চূড়ান্ত ভাবে গেজেটেড হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়েছে ১০৫ জন কে।এর ভিতর ৫৬ জন বাদে বাকী ৪৯ জন মেডিকেল করেনি।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা জরুরি
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, যেসব প্রার্থীর নাম বাদ পড়েছে তাঁদের বিষয়ে প্রযোজ্য নিয়ম ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি পরিষ্কারভাবে জানানো, যাতে তাঁরা নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ পান।
সানির ব্যক্তিগত সংকট এই ঘটনাকে আরও মানবিক মাত্রা দিয়েছে। অসুস্থ বাবার পাশে থেকে দীর্ঘদিনের পেশাগত স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করা একজন প্রার্থী এখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তবে তাঁর কিংবা অন্য প্রার্থীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
**Raise Your Voice — অধিকার পত্র ডটকম**