10/17/2026 উড়ন্ত গাড়ি আনছে টেসলা, নতুন রোডস্টার আসছে ২০২৮ সালে
odhikarpatra
১৬ October ২০২৬ ২১:০৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা উন্মোচন করেছে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টার স্পোর্টস কারের নতুন নকশা। গাড়িটিতে যুক্ত করা হয়েছে ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি প্রযুক্তির আদলে বিশেষ থ্রাস্টার, যার সাহায্যে প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে, ঘুরতে এবং মাটিতে অবতরণ করতে দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ওয়াকোর কাছে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে গাড়িটি বিশেষ র্যাম্প বেয়ে উল্টো দিকে চলার পর ঘুরে মাটিতে নেমে আসে। পরে সাইবারক্যাব, সাইবারট্রাক, টেসলা সেমি, মডেল ওয়াই ও মডেল থ্রি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যাওয়ার কসরতও দেখানো হয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু করার পরিকল্পনা জানিয়েছে টেসলা। তবে গাড়িটির চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
তিন সংস্করণে আসছে রোডস্টার
টেসলা নতুন রোডস্টারের তিনটি সংস্করণ বাজারে আনার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এগুলো হলো—পারফরম্যান্স, থ্রাস্ট ও রকেট।
পারফরম্যান্স: দুই আসনের এই সংস্করণকে সাধারণ সড়কে চলাচলের উপযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছে টেসলা। এতে সক্রিয় অ্যারোডাইনামিক ব্যবস্থা এবং বিশেষ সাকশন প্রযুক্তি থাকবে।
থ্রাস্ট:দুই আসনের এ সংস্করণে পেছনে স্থাপন করা হবে কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার। কোম্পানির দাবি, বিশেষ এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল (প্রায় ৯৬.৬ কিলোমিটার) গতিতে পৌঁছাতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নিতে পারবে।
রকেট:এক আসনের এই সংস্করণে গাড়ির বিভিন্ন স্থানে ১০টি কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ সংস্করণটি আমন্ত্রণের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারফরম্যান্স সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার এবং থ্রাস্ট সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার সংরক্ষণমূল্য দেখিয়েছে টেসলার ওয়েবসাইট। রকেট সংস্করণের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ প্রয়োজন। এসব অর্থ গাড়ির সম্পূর্ণ বিক্রয়মূল্য নয়, বরং সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত অর্থ।
এক সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতির দাবি
প্রদর্শনীতে টেসলা দাবি করেছে, নতুন রোডস্টার শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে প্রায় এক সেকেন্ড সময় নিতে পারে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৩০ মাইলের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, একবার চার্জে গাড়িটির সম্ভাব্য পাল্লা হবে ৩০০ মাইলের বেশি, যা প্রায় ৪৮৩ কিলোমিটার।
তবে এসব কার্যক্ষমতার তথ্যকে কোম্পানির দাবি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উৎপাদনযোগ্য চূড়ান্ত মডেলের স্বাধীন পরীক্ষা ও বাস্তব ব্যবহারের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সব সক্ষমতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত বলা যায় না।
গাড়ির ভেতরে ৬০০ লিটার সংকুচিত বাতাস
টেসলার প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লার্স মোরাভি অনুষ্ঠানে জানান, গাড়িটিতে ১০টি থ্রাস্টার এবং ৬০০ লিটার সংকুচিত বাতাস ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা রয়েছে। এই ব্যবস্থার সাহায্যে গাড়িটিকে বাতাসে তোলা ও ঘোরানোর কৌশল দেখানো হয়েছে।
টেসলার ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ির বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে কার্বন ফাইবার দিয়ে শক্তিশালী করা বিশেষ চাপধারক পাত্র বা সিওপিভি রাখা হয়েছে। এসব পাত্রে উচ্চচাপে গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়।
তবে উচ্চচাপের গ্যাস ব্যবহার, গাড়ির ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসাধারণের সড়কে এ ধরনের প্রযুক্তির নিরাপদ প্রয়োগ বড় প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে উড্ডয়নসদৃশ কসরত সাধারণ সড়কে বৈধ ও নিরাপদভাবে করা যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।
প্রায় নয় বছরের অপেক্ষা
টেসলা প্রথম দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের ধারণা প্রকাশ করেছিল ২০১৭ সালে। সে সময় কয়েক বছরের মধ্যেই গাড়িটি বাজারে আনার কথা বলা হলেও উৎপাদন বারবার পিছিয়েছে। ২০২০, ২০২১, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও প্রকল্পটির সময়সূচিতে পরিবর্তন আসে।
এর মধ্যে টেসলা মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই এবং সাইবারট্রাকসহ অন্যান্য প্রকল্পে মনোযোগ দেয়। পরে রোডস্টার প্রকল্পটি আবার সামনে নিয়ে আসেন ইলন মাস্ক। নতুন গাড়ির নকশা ও থ্রাস্টার প্রযুক্তি নিয়ে তাঁর একাধিক প্রতিশ্রুতির পর অবশেষে ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর নতুন সংস্করণটি প্রদর্শন করা হলো।
নিরাপত্তা ও বাস্তব উৎপাদন নিয়ে প্রশ্ন
নতুন রোডস্টারকে টেসলার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শনের বিশেষ মডেল হিসেবে তুলে ধরেছেন ইলন মাস্ক। তবে উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় ২০২৮ সাল হওয়ায় গাড়িটি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছাতে এখনো অপেক্ষা করতে হবে।
গাড়িটির থ্রাস্টার প্রযুক্তি বাস্তবে কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, সাধারণ সড়কে কোন সংস্করণ চলাচলের অনুমতি পাবে এবং ঘোষিত কার্যক্ষমতা চূড়ান্ত উৎপাদন মডেলেও বজায় থাকবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা ও বিস্তারিত তথ্যের প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনী বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রচলিত ধারণার বাইরে এক প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা তুলে ধরেছে। তবে প্রদর্শনীর চমককে বাস্তব ব্যবহারযোগ্যতা ও নিরাপত্তার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।
**সূত্র: TechCrunch, Reuters ও The Verge।**