10/24/2026 শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং মামলা: আট মাসেও তদন্ত শেষ হয়নি
odhikarpatra
২৩ October ২০২৬ ২২:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগে করা মামলার তদন্ত আট মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তদন্তের স্বার্থে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করতে চায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এসব ডিভাইস এখনো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ডিভাইসগুলো চেয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে বাদীপক্ষকে অন্তত তিনবার চিঠি দিয়েছে ডিবি। গত এপ্রিল মাসে আদালত ডিভাইস জব্দ ও পরীক্ষার অনুমতি দেন। আগামী নভেম্বর মাসে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
ডিভাইস দিতে আপত্তি নয়, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
মামলার বাদী মো. সিরাজুল ইসলাম ডিবির চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ডিভাইস দিতে তাঁরা অস্বীকার করছেন না; তবে ডিভাইসের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে ডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, মামলা দায়েরের সময় হ্যাকিং-সংক্রান্ত কিছু গবেষণাপত্র এবং সরকারি সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্র থেকে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়ে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনার পক্ষে কিছু নথি ডিবিকে দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে হ্যাকিংয়ের প্রকৃত উৎস বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
তদন্তে কেন গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা?
ঢাকা মহানগর ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ বলছে, এ ধরনের সাইবার অপরাধের উৎস শনাক্ত করতে মূল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য আইপি ঠিকানা, লগইন সেশন এবং কোনো ম্যালওয়্যারের উপস্থিতি ছিল কি না, তা অনুসন্ধান করা সম্ভব হতে পারে।
এদিকে এক্স কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার
মামলাটিতে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিন পান। তাঁর ব্যবহৃত কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ডিবির তল্লাশির পর ফেরত দেওয়া হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
ছরওয়ারে আলমের দাবি, তাঁর ডিভাইস থেকে কোনো ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি নির্দোষ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াত আমিরের ব্যবহৃত ডিভাইসের পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার।
বিতর্কিত পোস্ট ঘিরে মামলার সূত্রপাত
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের উদ্দেশে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশিত হয়। পোস্টটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জামায়াতের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগসহ মামলা দায়ের করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
আট মাসেরও বেশি সময় পরও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় মামলাটির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যাবে কি না, তা নির্ভর করছে ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর।
শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং মামলা ঝুলে আছে কেন? আট মাসেও শেষ হয়নি তদন্ত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগে করা মামলার তদন্ত আট মাসেরও বেশি সময়েও শেষ হয়নি। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনসহ সংশ্লিষ্ট ডিভাইস চেয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে ডিবি। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বাদীপক্ষ।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বঙ্গভবনের সাবেক সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম জামিনে রয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি, ফরেনসিক পরীক্ষা ও মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকমে।
#শফিকুররহমান #জামায়াতে ইসলামী #এক্সঅ্যাকাউন্ট #সাইবারঅপরাধ #হ্যাকিংমামলা #ডিবি #বাংলাদেশ #অধিকারপত্রডটকম