10/30/2026 অভিযোগিত গণধর্ষণের ঘটনা সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ: কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট শুরু
odhikarpatra
৩০ October ২০২৬ ০৬:১৩
অধিকারপত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক :
যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগভুক্ত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন সহিংসতার অভিযোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষের জেরে অনাস্থা ভোট শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভ্রাতৃসংঘের (ফ্র্যাটারনিটি) বাড়িতে এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনের পদক্ষেপ, তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর শিক্ষকরা অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর ইলেকট্রনিক ভোট শুরু করেন। ভোট চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। এই ভোট আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়; তবে এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফের নেতৃত্বের প্রতি শিক্ষকদের আস্থার অবস্থান প্রকাশ পেতে পারে।
সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
মামলার নথিতে ‘জেন ডো’ ছদ্মনামে পরিচয় দেওয়া এক নারী অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চি ফাই (Chi Phi) ভ্রাতৃসংঘের বাড়িতে তাঁকে মাদক প্রয়োগ করে সাত পুরুষ শিক্ষার্থী যৌন নির্যাতন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান।
তবে অভিযোগে নাম আসা সাতজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে; কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তদন্তের পর স্থানীয় প্রসিকিউটররা আগে ফৌজদারি অভিযোগ আনেননি। পরে দেওয়ানি মামলা ও নতুন তদন্তের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রম বন্ধ করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে তাঁদের দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু অভিযোগকারীর বক্তব্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপের মধ্যে সময়ক্ষেপণ, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ে।
শিক্ষক সিনেটের প্রস্তাবের অন্যতম উদ্যোক্তা অধ্যাপক পল অর্টিজ বলেছেন, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে তাঁদের কাছে এসে জানিয়েছেন, ‘জেন ডো’র ঘটনা আরও বড় সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। Al Jazeera
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি
কর্নেলের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০ জন নারী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সংকটের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দেখাতে পারেনি।
অন্যদিকে কোটলিকফ নিজের নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি কিছু ভুলত্রুটি স্বীকার করে আরও সময় চেয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন সহিংসতা মোকাবিলার নীতি ও শিক্ষার্থীদের সামাজিক পরিবেশে পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন।
ভোটের ফল কী প্রভাব ফেলতে পারে?
অনাস্থা প্রস্তাবটি পাস হলেও তা সরাসরি প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগে বাধ্য করবে না। এটি মূলত শিক্ষকদের অসন্তোষের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ওপর নেতৃত্ব পরিবর্তন বা প্রশাসনিক সংস্কারের চাপ তৈরি করতে পারে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচন ও নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা ট্রাস্টি বোর্ডের হাতে।
ভোটের আগে শিক্ষক সিনেটে প্রস্তাবটি স্থগিত রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। কেউ কেউ স্বাধীন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার পক্ষে মত দেন। কিন্তু ভোট স্থগিত করার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত নাকচ হয়।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোচুল মামলাটির নতুন তদন্তের দায়িত্ব অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের হাতে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বভাবে ঘটনাটি মোকাবিলার পদ্ধতি পর্যালোচনায় স্বাধীন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য ভ্রাতৃসংঘের বাড়িতে পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠান স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ক্যাম্পাসে যৌন সহিংসতার অভিযোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথাও জানায় প্রশাসন।
৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই ভোটের ফল কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের প্রতি শিক্ষকদের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন সহিংসতার অভিযোগের তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
ক্যাম্পাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, এবার অনাস্থার মুখে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট!
যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের এক নারী শিক্ষার্থীর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে তোলপাড়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রেসিডেন্ট মাইকেল কোটলিকফের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট শুরু করেছেন শিক্ষকরা। ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে ভোট। অভিযোগে নাম আসা সাতজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে এখন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিতর্ক।
: Cornell University, Cornell no confidence vote, Michael Kotlikoff, Cornell gang rape allegation, Chi Phi fraternity, US university sexual assault, Cornell faculty vote
হ্যাশট্যাগ: #CornellUniversity #MichaelKotlikoff #SexualAssault #USNews #UniversityNews #অধিকারপত্র