11/04/2026 শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অর্থায়নের অভিযোগ, তদন্তে ইলিয়াস-কচি-জাহাঙ্গীরের নাম
odhikarpatra
৩ November ২০২৬ ২০:৩৭
অধিকার পত্র ডটকম | ৩ নভেম্বর ২০২৬
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের অভিযোগে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের নাম এসেছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা পোস্টের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিবির দাবি—শ্রমিক আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে মিছিল, টায়ারে আগুন, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে কিছু ব্যক্তিকে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কাজের ছবি ও ভিডিও পাঠানোর পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি পুলিশের।
মিছিলে ৫০০, অগ্নিসংযোগে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনার দাবি
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিছিলে অংশ নিতে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা, টায়ারে আগুন দিতে ৩ হাজার টাকা এবং গাড়ি বা স্থাপনায় আগুন দিতে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কোথাও কোথাও গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা বলে দাবি করা হয়েছে।
কাজের প্রমাণ হিসেবে ছবি ও ভিডিও পাঠানোর শর্ত ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। কয়েকজন গ্রেপ্তার ব্যক্তি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ডিবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে ২০ থেকে ২৫টি অনলাইন গ্রুপের সন্ধান পাওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের অভিযোগ আলিফ ও জুয়েলের বিরুদ্ধে
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ঢাকায় লোক সংগ্রহ ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা এবং জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হতো এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হতো।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়েল ও কামাল গাজীসহ কয়েকজনকে মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া আলিফ মোল্লাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথাও জানিয়েছে ডিবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের গাড়িতে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার
মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজিব চন্দ্র দাস নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পল্লবী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দুই দিনে ৫০ জন গ্রেপ্তারের দাবি, একাধিক মামলা
মিরপুরের তিন থানায় চারটি মামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই দিনে থানা পুলিশ ও ডিবি অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ জনকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নাশকতায় জড়িতদের ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সোমবার সচিবালয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের ছাড় দেওয়া হবে না। অডিও-ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অধিকার পত্র ডটকমের পর্যবেক্ষণ
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং আন্দোলনের সুযোগে সহিংসতা বা নাশকতার অভিযোগ—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অপরাধ সংঘটিত হলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে অর্থায়ন ও নির্দেশনার অভিযোগ উঠলেই তা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্ত, প্রমাণ এবং আদালতের সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত।
তথ্যসূত্র ও যাচাই: ঢাকা পোস্টের ৩ নভেম্বরের মূল প্রতিবেদন এবং একই দিনের ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। dhakapost.com +1 দ্বিতীয় প্রতিবেদনেও পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে; তাই এটিকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। মূল প্রতিবেদনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক স্তরের তথ্য রয়েছে; এখানে সেগুলো পুলিশ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি হিসেবেই রাখা হয়েছে।