odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
ছোটবেলায় চেহারা নিয়ে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কথা জানালেন মেঘনা আলম। তাঁর দাবি, এখন অনেকেই বোটক্স, ফিলার ও সার্জারির মাধ্যমে তাঁর মতো লুক পেতে আগ্রহী হচ্ছেন। নিজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যকে এখন নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেও দেখছেন তিনি।

আমি এক মানুষ, দেখতে ১০০ রকম’: নিজের চেহারার স্বাতন্ত্র্য নিয়ে মেঘনা আলমের পোস্ট

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ০০:০০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ০০:০০

অধিকার পত্র ডটকম | বিনোদন অনলাইন। 

নিজের চেহারার বৈচিত্র্য, স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং ছোটবেলায় চেহারা নিয়ে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন মেঘনা আলম। তাঁর ভাষ্য, চুলের ধরন, পোশাক কিংবা সাজসজ্জা বদলালে তাঁকে একেক রকম দেখায়। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তাঁর ছবি তৈরি করলেও অনেক সময় তা তাঁর প্রকৃত চেহারার সঙ্গে মেলে না।

ফেসবুক পোস্টে মেঘনা আলম লিখেছেন, তিনি নিজেকে খুব সুন্দর দাবি করছেন না; বরং নিজের স্বাতন্ত্র্যকেই বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, চেহারার এই ভিন্নতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

ছোটবেলায় বুলিং, বড় হয়ে আত্মবিশ্বাস

নিজের শৈশব ও কৈশোরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেঘনা আলম জানান, স্বতন্ত্র চেহারার কারণে ছোটবেলায় ও টিনএজ বয়সে তাঁকে অনেক বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। সে সময় তাঁর মধ্যে নানা ধরনের অনিরাপত্তাবোধও কাজ করত।

তবে সময়ের সঙ্গে নিজের এই বৈশিষ্ট্যকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে বলে পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মেঘনার দাবি, বর্তমানে অনেকেই বোটক্স, ফিলার ও সার্জারির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের চেহারা পেতে আগ্রহী। এমনকি অতীতে যাঁরা তাঁকে নিয়ে বুলিং করতেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন তাঁর ছবি রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়ে নিজেদের লুক পরিবর্তন করতে আসছেন বলে বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে তিনি শুনেছেন।

 ‘অ্যাম্বিগুয়াস ফিচারস’—বিভিন্ন লুকে মানিয়ে নেওয়ার বৈশিষ্ট্য

মেঘনা আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর চেহারার বৈশিষ্ট্য এমন যে, তাঁকে নির্দিষ্ট কোনো দেশের মানুষের মতো সহজে চিহ্নিত করা যায় না। চীনা, জাপানি, আরব, আমেরিকান কিংবা অন্যান্য এশীয় লুকের সঙ্গেও তাঁর চেহারা মানিয়ে যায় বলে একসময় কাস্টিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে জানিয়েছিলেন।

এ ধরনের বৈশিষ্ট্যকে তিনি ‘অ্যাম্বিগুয়াস ফিচারস’ (Ambiguous Features) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এই বৈশিষ্ট্যের কারণে হলিউডের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। তবে নিজের অলসতার কারণে সে সময় কাজগুলো করা হয়নি বলে পোস্টে জানিয়েছেন।

 আত্মীয়দেরও পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়

নিজের চেহারার বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আত্মীয়দের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন মেঘনা। তাঁর দাবি, পরিবারের কয়েকজন বোন ও কাজিনকে অনেকে ভুল করে তাঁর সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন এবং ‘আপনি কি মেঘনা আলম?’—এমন প্রশ্ন করে বিব্রত করেন।

মেঘনার মতে, তাঁর কিছু ছবির সঙ্গে আত্মীয়দের প্রকৃত চেহারার মিল থাকায় এমন বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, সামনাসামনি দেখলে অনেকেই তাঁকে সহজে চিনতে পারেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নাম শোনার পর অনেকে বিস্মিত হন।

মাস্কেও পরিচয় ফাঁস করে দেয় কণ্ঠস্বর

নিজের চেহারা সহজে শনাক্ত করা না গেলেও একটি বিষয় তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয় বলে জানিয়েছেন মেঘনা আলম। সেটি হলো তাঁর কণ্ঠস্বর।

তবে এখানেও রয়েছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। মেঘনার দাবি, তিনি যে দেশের বা অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, কয়েক মিনিট পর তাঁর উচ্চারণ ও কথার ধরন অনেকটা সেই ব্যক্তির মতো হয়ে যায়। ফলে কণ্ঠস্বরও তাঁর পরিচয় গোপন রাখার নির্ভরযোগ্য উপায় নয় বলে মনে করেন তিনি।

 স্বাতন্ত্র্যই এখন নিরাপত্তার বিষয়

পোস্টের শেষাংশে নিজের চেহারার এই বৈচিত্র্যকে নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেছেন মেঘনা আলম। তাঁর ভাষায়, তিনি একই মানুষ হলেও তাঁকে ১০০ রকম চেহারায় দেখা যেতে পারে। আগে বিষয়টিকে তেমন বিশেষ কিছু মনে না করলেও এখন এটি তাঁর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

মেঘনা আলমের এই পোস্টে উঠে এসেছে চেহারা নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, সৌন্দর্যের প্রচলিত ধারণা এবং ব্যক্তিগত স্বাতন্ত্র্য নিয়ে তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা। তবে তাঁর পোস্টে উল্লিখিত বুলিং, ক্লিনিকে তাঁর ছবি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারের দাবি এবং হলিউডের মিউজিক ভিডিওতে কাজের প্রস্তাবের বিষয়গুলো তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে; এগুলোর স্বাধীন যাচাই এখানে করা হয়নি।