odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় ভুয়া এফডিআর, চেক জালিয়াতি ও ডিপোজিট স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ; দুদকের হাতে গ্রেপ্তার ৬

অগ্রণী ব্যাংকের ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ০০:০৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ০০:০৪

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় ভুয়া এফডিআর, চেক জালিয়াতি ও ডিপোজিট স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ; গ্রেপ্তার ৬

অধিকার পত্র ডটকম | মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের দাবি, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯১ জন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এরই মধ্যে ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮২৬ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা ২০০-এর বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার যারা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার ক্যাশ অফিসার মো. শহীদুজ্জামান, ব্যাংক কর্মকর্তা মো. জিন্নাহ হোসেন, রেজাউল হক ও মো. শরীফ উদ্দীন এবং নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু আহমেদ ও আবদুল হাই।

দুদক জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যেককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

যেভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য ভুয়া এফডিআর, চেক জালিয়াতি ও ভুয়া ডিপোজিট স্লিপ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

এ ছাড়া ব্যাংকের হিসাব-সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করেও গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯১ জন গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে কাজ চলছে। তবে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ধাপে ধাপে গ্রেপ্তার

দুদক জানায়, অভিযুক্ত ক্যাশ অফিসার মো. শহীদুজ্জামানকে গত ৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এরপর গত ৭ অক্টোবর দুদকের একটি দল শ্রীনগর শাখায় গিয়ে শ্রীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রাহকদের বক্তব্য নিচ্ছে দুদক

দুদকের অনুসন্ধানকারী দল বর্তমানে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বক্তব্য গ্রহণ করছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও ব্যাংকের নথিপত্র যাচাই করে আত্মসাতের প্রকৃত পরিমাণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

তবে আত্মসাতের অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যাবে না। দুদকের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।