odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে দ্রুত সম্পূরক গেজেট প্রকাশের দাবি; আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত জানাতে আলটিমেটাম, না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

৪৫তম বিসিএসে গেজেটবঞ্চিত ৫৬ প্রার্থীর আকুতি: ‘কেন বাদ, স্পষ্ট করে জানানো হোক’

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ১৬ October ২০২৬ ০৭:০৮

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ১৬ October ২০২৬ ০৭:০৮

অধিকারপত্র ডটকম নগর ডেক্স।

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

ঢাকা: সরকারি চাকরির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষা, কয়েক ধাপের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা পেরিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ—সবকিছুর পরও চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৬ জন চাকরিপ্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ, ঠিক কী কারণে তাঁদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাননি তাঁরা। দ্রুত সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করে যোগদানের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে এবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে প্রার্থীরা সরকারের কাছে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ স্পষ্ট করার পাশাপাশি দ্রুত গেজেটভুক্তির দাবি জানান। তাঁদের ভাষ্য, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই, তাঁদের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী ১ নভেম্বর অন্য নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হোক।

প্রার্থীদের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর রাত ১১টা ১০ মিনিটে গেজেট প্রকাশের পর তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের ৫৬ জনের নাম চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে নেই। এর পর থেকেই তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন, এবার প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন

গেজেট প্রকাশের পরদিন বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীরা। সেখানে তাঁরা জানান, শনিবারের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা না এলে চরম হতাশা থেকে আত্মহননের মতো পথ বেছে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রার্থীদের এমন বক্তব্য তাঁদের মানসিক সংকটের গভীরতাকে সামনে এনেছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও প্রত্যাশার পর নিয়োগের শেষ পর্যায়ে এসে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

শুক্রবারের মানববন্ধনে প্রার্থীরা বলেন, তাঁদের প্রত্যেকের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ভিত্তি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা জানানো হোক। একই সঙ্গে যাঁদের নিয়োগে আইনগত বাধা নেই, তাঁদের যেন অযৌক্তিকভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা না হয়।

আগামীকাল দুপুর ১২টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর দাবি

মানববন্ধন থেকে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁদের জানাতে বলা হয়েছে, বাদ পড়া প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ করা হবে কি না।

প্রার্থীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে তাঁরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, যাতে বিষয়টির দ্রুত সমাধান হয়।

তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; বরং কোন প্রক্রিয়ায় তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত চান।

গেজেটে ১ হাজার ৭০২ জন, বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন

৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৭০২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫৬ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিতি ও কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাদ পড়া অন্য প্রার্থীদের বিষয়টি আলাদা হলেও, এই ৫৬ জনের বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রার্থীদের দাবি, তাঁদের বিষয়ে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হলে তাঁরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন। কিন্তু ব্যাখ্যা না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের বাদ পড়ার কারণ, যাচাই-বাছাইয়ের অবস্থা এবং পুনর্বিবেচনার সুযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

আগের ঘটনাও সামনে আনছেন প্রার্থীরা

প্রার্থীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, এর আগেও বিসিএস নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে সরকারিভাবে পুনর্বিবেচনার নজির রয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রতিটি প্রার্থীর তথ্য ও অভিযোগ পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

তবে আগের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাঁরা পুনরায় গেজেটভুক্ত হয়েছিলেন, তাঁদের পরিস্থিতি ও বর্তমান ৪৫তম বিসিএসের প্রার্থীদের পরিস্থিতি এক কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও সরকারি বক্তব্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

দ্রুত সমাধান চান চাকরিপ্রার্থীরা

চাকরিপ্রার্থীদের কাছে বিসিএস শুধু একটি চাকরির পরীক্ষা নয়; দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নের সঙ্গেও এটি জড়িত। নিয়োগের শেষ ধাপে এসে বাদ পড়ার কারণ জানতে না পারা তাঁদের সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রার্থীদের দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত তাঁদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়। যাঁদের নিয়োগে আইনগত বাধা নেই, তাঁদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সম্পূরক গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হোক।

এখন দেখার বিষয়, প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সরকার তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায় কি না। স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগত যাচাই এবং দ্রুত সিদ্ধান্তই পারে এই অনিশ্চয়তা কমাতে এবং চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রতিবেদনটি প্রার্থীদের বক্তব্য ও প্রকাশিত সংবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। মানববন্ধনে উপস্থিতির সংখ্যা, সুনির্দিষ্ট বক্তব্য এবং সরকারের সর্বশেষ অবস্থান সরাসরি যাচাই করা হয়নি। 

 

মানবিক সতর্কতা: প্রার্থীদের আত্মহননের আশঙ্কার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের উচিত তাঁদের নিরাপত্তা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা। তাঁদের কারও তাৎক্ষণিক আত্মক্ষতির ঝুঁকি থাকলে তাঁকে একা না রেখে দ্রুত জরুরি সহায়তা নিতে হবে।

│