odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো ও ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ চালুর বিষয় বিবেচনায়; বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নেও জটিলতা কমাতে চান বাণিজ্যমন্ত্রী

এক পোর্টালেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স, ঘরে বসে আবেদনের সুযোগ চালুর পরিকল্পনা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ২৩:৪১

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ২৩:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর ২০২৬: দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ীরা ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা, আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা এবং হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সভার তথ্য জানানো হয়েছে।

 এক পোর্টালে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন পৃথক ব্যবস্থায় ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে। এই প্রক্রিয়াকে একটি সমন্বিত অনলাইন পোর্টালের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ব্যবসায়ীরা একটি নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে, আবেদন করতে এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি প্রচলিত ট্রেড লাইসেন্সকে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ বা সমজাতীয় নামে রূপান্তরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি সেবাপ্রাপ্তিতে সময়ক্ষেপণ ও প্রশাসনিক জটিলতা কমতে পারে।

তবে সমন্বিত পোর্টাল চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা বা নতুন ব্যবস্থার চূড়ান্ত কার্যকর তারিখ সভা-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নে জটিলতা কমানোর আহ্বান

বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের কাজের অনুমোদন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকেরা সাধারণত বৈধ ও নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে আসেন। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত কর পরিশোধ করে এবং তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা পরিচালকেরাও দেশের বৈধ নাগরিক। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নে অযৌক্তিক জটিলতা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজের অনুমোদন এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসার ব্যয় কমানো ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ

সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সভায় ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উদ্যোগ এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

টাস্কফোর্সের সদস্য হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান, অর্থ বিভাগের সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) নিবন্ধক এবং অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।