odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
তুরাগের আবাসিক ভবনে ডিবি ওয়ারীর অভিযান; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ে আপত্তিকর ছবি-ভিডিওর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকায় ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৫, উদ্ধার টর্চার বেল্ট ও ফাঁকা চেক

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ October ২০২৬ ২২:৩৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ October ২০২৬ ২২:৩৫

অধিকারপত্র ডটকম | নগর প্রতিবেদক :

রাজধানীর তুরাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ওয়ারী। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। পুলিশের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ে পুরুষদের নির্দিষ্ট বাসা বা হোটেলে ডেকে নিয়ে জিম্মি, নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত চক্রটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমপি নিউজে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গোপন নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করার পর তুরাগ থানার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান চক্রটির মূল হোতা।

যেভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

ডিবি ওয়ারী বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে তাঁদের কৌশলে নির্ধারিত বাসা বা হোটেলকক্ষে ডেকে নেওয়া হতো।

সেখানে চক্রটির পুরুষ সদস্যরা ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এ সময় আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো বলে জানিয়েছে ডিবি।

পুলিশের দাবি, একবার অর্থ নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে আবার টাকা দাবি করত চক্রটি।

 অভিযানে যা উদ্ধার

ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক এবং একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটির সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন বলে জানিয়েছে ডিবি। পাশাপাশি ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হতো বলেও পুলিশের ভাষ্য।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধও জানিয়েছে ডিএমপি।