odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 6th November 2026, ৬th November ২০২৬
নাগোয়ার মোতোমাচি কারখানায় গাড়ি সংযোজন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ; জাপানের শিল্পপ্রযুক্তি ও উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কে জানলেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানে টয়োটার কারখানায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দেখলেন গাড়ি তৈরির আধুনিক প্রযুক্তি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ October ২০২৬ ১৪:৪৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ October ২০২৬ ১৪:৪৯

অধিকারপত্র ডটকম / বিশেষ প্রতিনিধি 

নাগোয়া, জাপান | ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানে চার দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে নাগোয়া শহরে অবস্থিত কারখানাটিতে যান তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী কারখানার গাড়ি সংযোজন বা অ্যাসেম্বলি প্রক্রিয়া ঘুরে দেখেন। এ সময় টয়োটার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রেক্ষাপটে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তবে কারখানা পরিদর্শনের সঙ্গে বাংলাদেশে টয়োটার নতুন কারখানা স্থাপন বা বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এই প্রতিবেদনে নেই।

 টয়োটার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত

প্রধানমন্ত্রীর কারখানা পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন টয়োটা মোটর করপোরেশনের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসাহিকো মোয়েদা, টয়োটা সুশো করপোরেশনের মোবিলিটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিগেরু হারাদা এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শিনিচিরো ওতসুকাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে কারখানার কার্যক্রম ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের মূল বিষয় ছিল গাড়ি সংযোজন প্রক্রিয়া ও উৎপাদনব্যবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ।

 প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সফরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ জাপানের শিল্পপ্রযুক্তি?

জাপান দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি নির্মাণ, শিল্পপ্রযুক্তি, উৎপাদন দক্ষতা এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। টয়োটার মতো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রস্তাব, অবকাঠামো, দক্ষ কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর থেকে বাংলাদেশে নতুন গাড়ি কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা দাবি করা সমীচীন হবে না।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের পরবর্তী সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্ব পেয়েছে। টয়োটার মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সহায়ক হতে পারে।

তবে একটি কারখানা পরিদর্শনের প্রকৃত অর্থনৈতিক ফলাফল নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়িত প্রকল্পের ওপর। তাই এই সফরের সাফল্য মূল্যায়নে ভবিষ্যতে কী ধরনের চুক্তি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, সেদিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

অধিকার পত্র ডটকমের পর্যবেক্ষণ: জাপানের উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে। এই অভিজ্ঞতাকে বাস্তব সুফলে রূপ দিতে হলে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।