11/07/2026 আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে: দুদক
odhikarpatra
১৫ October ২০২৬ ১৬:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক ব্রিফিংয়ে দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও বড় অঙ্কের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সমকালের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন অভিযোগে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অভিযোগের অঙ্ক ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
বড় মামলার কার্যক্রম তদারকিতে যৌথ অনুসন্ধান দল
দুদক মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, কমিশনের বড় বড় মামলার কার্যক্রম যৌথ অনুসন্ধান দল পরিচালনা করছে। এসব কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত অগ্রগতির তথ্য ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে কি না, তা মূল প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর উদ্যোগ চলছে
সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে দুদক মহাপরিচালক বলেন, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্ত রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট মামলা ও অভিযোগের কোনো ফাইল আটকে নেই এবং কার্যক্রমের গতিও মন্থর হয়নি।
দুদকের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান
ব্রিফিংয়ে বর্তমান কমিশনের কার্যক্রমের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০ আগস্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুদক ১২১টি মামলা করেছে এবং ৬১টি অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে। একই সময়ে ৬১টি এনফোর্সমেন্ট অভিযান ও একটি ফাঁদ মামলা পরিচালিত হয়েছে।
এ ছাড়া দুদকের ৬৮টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক বা ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন। একই সময়ে ২২ জন অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদেশ ভ্রমণ রহিত করার আদেশও দেওয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।