11/07/2026 গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, আটক ৬
odhikarpatra
১৭ October ২০২৬ ০০:০৫
অধিকারপত্র ডটকম নগর ডেক্স :
নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। প্রতিমন্ত্রীর মিডিয়া সেলের পাঠানো বার্তা এবং গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনিরের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানগেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানসংক্রান্ত দুটি ভিডিও নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়। অভিযানের সময় প্রতিমন্ত্রীর হাতে একটি পিস্তলও দেখা গেছে। তবে ভিডিওতে অস্ত্রটির কিছু অংশ ঝাপসা থাকায় সেটির ধরন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেন তাঁর হাতে অস্ত্রটি ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডার, পরীক্ষার অপেক্ষা
গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, প্রতিমন্ত্রী ছয়জনকে আটক করার পর থানায় ফোন দেন। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে আসেন।
ওসি বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। তবে সেটি হেরোইন কি না, পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
অর্থাৎ, পদার্থটির পরীক্ষার ফল ও তদন্তের তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে নিশ্চিতভাবে হেরোইন বলা যাচ্ছে না। একইভাবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিও এখনো জানা যায়নি।
‘নিজ দলের কেউ জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না’
অভিযান শেষে ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তাঁর মিডিয়া সেলের পাঠানো বার্তায় বলা হয়, মাদক কারবারে যে দলের লোকই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি তাঁর নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এলাকাবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক বিক্রেতাদের ঢাকা-৬ আসনে জায়গা দেওয়া হবে না। মাদকের কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংস হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, গত ছয় মাস ধরে গোয়েন্দাদের মাধ্যমে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
মাদক সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে আটকের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকারীদেরও উৎসাহিত করার কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৬ আসন থেকে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযান দেশজুড়ে চালানোর লক্ষ্য রয়েছে।
‘দেশ আইনের মাধ্যমে চলবে’
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে তাঁদের আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁদের মারধর করার জন্য অভিযান চালানো হয়নি; তাঁদের পুলিশের কাছে নেওয়া হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছিল। নতুন অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এ কাজে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন ইশরাক হোসেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে লিখিত বার্তা পাঠানো হয়।
মাদকবিরোধী এ অভিযানে ছয়জনকে আটক করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি, উদ্ধার করা পদার্থের পরীক্ষার ফল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।
।
আটক ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ না করে ‘আটক ব্যক্তি’ বা ‘সন্দেহভাজন’ বলা হয়েছে। উদ্ধার করা পদার্থের পরীক্ষার ফল এবং অস্ত্রের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা উচিত।