odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 1st February 2026, ১st February ২০২৬
আমি রাজনীতির শিকার হয়েছি’: বিস্ফোরক বাঙালি অভিনেত্রী শ্রদ্ধা দাস

শ্রদ্ধা দাস: 'রাজনীতির শিকার হয়েছি', বলিউড-দক্ষিণ ইন্ডাস্ট্রির তুলনা এবং শাহরুখ-আল্লু অর্জুনের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৩ December ২০২৫ ২২:১৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৩ December ২০২৫ ২২:১৫

অধিকারপত্র ডটকম 

মুম্বাই, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫: বলিউডের পাশাপাশি দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রিতেও সমানভাবে পরিচিত বাঙালি কন্যা শ্রদ্ধা দাস। সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ওয়েব সিরিজ ‘সার্চ: নয়না দ্য মার্ডার কেস’-এ তার দুর্দান্ত অভিনয় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্য এক তারকা হোটেলে এই অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার, নতুন কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।


আইএমডিবি-র জনপ্রিয় তারকাদের তালিকায় শীর্ষস্থানে অবস্থান এবং ‘সার্চ: নয়না দ্য মার্ডার কেস’-এর অভূতপূর্ব সাফল্য—এই সব মিলিয়ে শ্রদ্ধা দাস বর্তমানে দারুণ উচ্ছ্বসিত। অভিনেত্রী জানান, তিনি ছয়টি ভিন্ন ভাষায় কাজ করেছেন এবং দীর্ঘদিনের এই স্বীকৃতি, প্রশংসা ও ভালোবাসা—সবকিছুই মন ভরে উপভোগ করছেন।


সাফল্যের আনন্দ ও কাজের অভিজ্ঞতা
সিরিজটি সৃজনশীলতার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবেও সফল হয়েছে। শ্রদ্ধা দাস আলাপচারিতার শুরুতেই কঙ্কণা সেন শর্মার মতো শক্তিশালী অভিনেত্রী এবং রোহন সিপ্পির মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে তার জীবনের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

সিরিজে তার চরিত্রটি দর্শকদের কাছে ইতিবাচকভাবে গৃহীত হওয়ায় তিনি আরও বেশি উৎসাহিত। সাফল্যের উদ্‌যাপন প্রসঙ্গে হালকা হেসে তিনি বলেন, সিরিজ মুক্তির পর থেকে কাজের চাপ এবং ইন্টারভিউ নিয়ে এত ব্যস্ত যে, আলাদা করে উদ্‌যাপনের সময় পাননি। তবে সবকিছুর জন্য তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


পরিবার ও অভিনয়ে আসা
অভিনয়ে আসার পথে পরিবারের সমর্থন প্রসঙ্গে শ্রদ্ধা জানান, তার বাবা অত্যন্ত আধুনিক চিন্তাভাবনার মানুষ। তবে অন্য বাঙালি পরিবারের মতো তার বাবা-মাও চেয়েছিলেন তিনি যেন পড়াশোনায় মনোযোগ দেন এবং ইঞ্জিনিয়ার হন। যদিও তিনি গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং পাশাপাশি গানও শিখেছেন।
একবার শ্রদ্ধার একটি মিউজিক অ্যালবামের ফটোশুট দেখে কিংবদন্তি দেব আনন্দ তাকে একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যদিও ছবিটি শেষ পর্যন্ত হয়নি। স্মৃতিচারণ করে শ্রদ্ধা বলেন, “আমার বাবা-মা দেব আনন্দ স্যারের বিশাল ভক্ত ছিলেন। স্যারের ছবিতে কাজের কথা শুনে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। স্যার আমাকে জিনাত আমানের কথা মনে করিয়ে দেন—এই মন্তব্যটি আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।”
বলিউড বনাম দক্ষিণ: শ্রদ্ধার পর্যবেক্ষণ


বলিউড ও দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ নিয়ে শ্রদ্ধার পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত স্পষ্ট। তার মতে, “দক্ষিণের দর্শক অনেক বেশি আবেগপ্রবণ ও অনুগত। সেখানে সকালের শোতেও হলভর্তি দর্শক পাওয়া যায়, যা বলিউডে তুলনামূলকভাবে কম। তাই প্যান-ইন্ডিয়া ছবির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেড়েছে।” শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বলিউড মাঝে মাঝে কিছুটা অগোছালো হলেও দক্ষিণে কাজের শৃঙ্খলা অনেক বেশি। তবে ‘নয়না’ সিরিজের সেটে পুরোপুরি নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে।”


আল্লু অর্জুন ও স্বপ্নের চরিত্র
দক্ষিণি সুপারস্টার আল্লু অর্জুনের সঙ্গে 'আর্য ২' ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধা তার জীবনের অন্যতম আনন্দের স্মৃতি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি আল্লুকে “ভীষণ মজার আর তীক্ষ্ণবুদ্ধির মানুষ” হিসেবে উল্লেখ করেন। শ্রদ্ধা জানান, আল্লু তখন থেকেই স্টাইল ও ফ্যাশন নিয়ে খুব সচেতন ছিলেন এবং তাকেও কেশসজ্জা ও প্রসাধন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। আজকের দিনে আল্লুর আকাশছোঁয়া সাফল্য দেখে তিনি সত্যিই খুশি।


ইচ্ছার তালিকায় থাকা তারকাদের প্রসঙ্গে শ্রদ্ধা বলেন, তিনি শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ করতে চান এবং সুযোগ পেলে আবারও আল্লু অর্জুনের সঙ্গে কাজ করতে চান। শাড়ির প্রতি তার বিশেষ দুর্বলতা থাকায় সঞ্জয় লীলা বানসালির ছবিতে শাড়ি পরে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এছাড়াও রাজ-ডিকের মতো পরিচালকের সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।


রাজনীতির শিকার ও আত্মবিশ্বাস
দীর্ঘ ১৫-২০ বছরের অনিশ্চয়তার সময় পেরিয়ে এখন নিজেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে করেন শ্রদ্ধা। তিনি অকপটে জানান, “আমার পছন্দের চরিত্রগুলো পাওয়ার জন্য অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেক সময় ছোট চরিত্রে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। আমি রাজনীতির শিকার হয়েছি, তারকা-সন্তানের কারণে কাজও হারিয়েছি।”

তিনি জানান, আগে এসব নিয়ে কষ্ট পেলেও এখন আর পান না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি কিছুই থালায় সাজিয়ে পাইনি—সবকিছু অর্জন করেছি পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে।”
'নয়না' সিরিজের জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, কারণ এই সিরিজে তার কোনো দৃশ্য বা সংলাপ বাদ দেওয়া হয়নি। অতীতে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, যেখানে তার গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য কেটে দেওয়া হয়েছে।


বাঙালিয়ানা ও ভবিষ্যৎ
বাংলা সিনেমা দেখা হয় কি না—এই প্রশ্নে শ্রদ্ধা জানান, টানা শুটিংয়ের কারণে সময় পাননি। তবে তিনি তার বাঙালিয়ানা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। বাঙালি খাবার, বিশেষ করে মিষ্টি এবং চিংড়ি মাছ তার খুব প্রিয়।
আগামীতে শ্রদ্ধাকে দেখা যাবে জয়দীপ অহলাওয়াতের সঙ্গে একটি গ্ল্যামারাস চরিত্রে এবং মনোজ বাজপেয়ীর সঙ্গে আরও একটি শক্তিশালী নারী চরিত্রে। তিনি বলেন, কঙ্কণার পর জয়দীপ ও মনোজের সঙ্গে কাজ করা তার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো।


অভিনয় জীবনের আক্ষেপ প্রসঙ্গে একটু থমকে শ্রদ্ধা বলেন, ব্যস্ততার কারণে কিছু কাজ করতে না চাইলেও তিনি সেগুলো করেছেন। যদিও এখনকার আনন্দ সবকিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় তৃপ্তি হলো—এখন নির্মাতারা তাকে অডিশন ছাড়াই চরিত্র অফার করছেন।

 

 

স্টার-কিডদের 'রাজনীতির শিকার' হয়ে কাজ হারিয়েছি! ১৫ বছর অপেক্ষার পর স্বপ্নপূরণ: বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি বাঙালি অভিনেত্রী শ্রদ্ধা দাসের
|| #শ্রদ্ধাদাস #বলিউড #দক্ষিণইন্ডাস্ট্রি #নয়নামর্ডারকেস #সার্চনয়না #আল্লুঅর্জুন #শাহরুখখান #সঞ্জয়লীলাবানসালি #রাজনীতিরশিকার #অধিকারপত্র |






আপনার মূল্যবান মতামত দিন: