ডেক্স রিপোর্ট অধিকার পত্র ডটকম
ভারতের গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত গির জাতীয় উদ্যান বর্তমানে এশিয়াটিক সিংহের একমাত্র প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। চলতি শীত মৌসুমে এই উদ্যানে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ, যার প্রধান কারণ হলো সিংহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়া।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারির ফলে গিরে সিংহের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে ৬২৭ থেকে বেড়ে ৮৯১-এ পৌঁছেছে। যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি। গির জাতীয় উদ্যানের এই সাফল্যকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ শতকের শুরুতে এশিয়াটিক সিংহ প্রায় বিলুপ্তির মুখে পড়ে। অতিরিক্ত শিকার ও প্রাকৃতিক আবাস ধ্বংসের কারণে তখন বনে মাত্র ২০টির মতো সিংহ টিকে ছিল। এমন সংকটময় সময়ে গির কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বনাঞ্চল সুরক্ষা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ, বিপজ্জনক কূপ ঢেকে দেওয়া, সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আধুনিক বন্যপ্রাণী হাসপাতাল স্থাপন করা হয়।
উদ্যান পরিচালক রামরতন নালার তত্ত্বাবধানে এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। ফলস্বরূপ গির আবারও সিংহের নিরাপদ আবাসে পরিণত হয়েছে। সিংহের এই পুনরুদ্ধার শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের সাফল্যই নয়, বরং পর্যটন শিল্পের জন্যও বড় আশীর্বাদ।
গিরের বন্যপ্রাণী সাফারি অভিজ্ঞতা
গির ভ্রমণ মানেই রোমাঞ্চকর সাফারি। সকাল ও বিকেলের সাফারিতে বনভূমির রূপ ভিন্নভাবে ধরা দেয়। শীতের সকালে কুয়াশার মাঝে সিংহের শান্ত বিচরণ কিংবা দূর থেকে ভেসে আসা গর্জন পর্যটকদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
সাফারির সময়সূচি:
- সকাল ৬টা – ৯টা
- সকাল ৯টা – দুপুর ১২টা
- বিকেল ৪টা – সন্ধ্যা ৭টা
প্রতিটি সাফারিই আলাদা অনুভূতি দেয়। অনেক পর্যটক একদিনে সকাল ও বিকেল—দুটি সাফারি বেছে নেন প্রকৃতির ভিন্ন রূপ উপভোগ করতে। সিংহের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে এখন সাফারিতে সিংহ দেখার সম্ভাবনাও আগের চেয়ে অনেক বেশি।
সব মিলিয়ে গির জাতীয় উদ্যান বর্তমানে শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং সফল সংরক্ষণ আন্দোলনের এক জীবন্ত প্রতীক।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: