odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th February 2026, ৭th February ২০২৬
রাজশাহীর সাফিনা পার্কে শিক্ষা সফরে এসে শিক্ষার্থীর মৃত্যু: কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ

সাফিনা পার্কে ওয়াটার পুলে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু! ২ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকলেও অবহেলার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে; ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ February ২০২৬ ২৩:১৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ February ২০২৬ ২৩:১৯

রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিনোদন কেন্দ্র 'সাফিনা পার্কে' শিক্ষা সফরে এসে নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর ওয়াটার পুলে মিলেছে আবিদ আহনাফ সোয়াদ (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পার্কের ‘ওয়াটার ওয়েভ পুলে’ গোসল করতে নেমে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

মৃত সোয়াদ বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া পাড়া এলাকার আবু হাসিবের একমাত্র পুত্র এবং বগুড়া ইকরা মডেল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা জানান, বিকেল সোয়া ২টার দিকে সোয়াদকে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন। দীর্ঘ সময় পর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে ওয়েভ পুলে সোয়াদকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে কোনো লাইফগার্ড বা উদ্ধারকর্মী না থাকায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন:
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাফিনা পার্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হয়।

প্রায় ১০০ বিঘা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী নেই। এছাড়া পার্কটিকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কোনো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বরং কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে 'খাম পদ্ধতি' বা অর্থের বিনিময়ে তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে।

ক্ষোভ ও তদন্ত:
মাদ্রাসার শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সময়মতো সহযোগিতা করলে হয়তো একটি প্রাণ বেঁচে যেত। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পার্কের ম্যানেজার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন এবং পরে এড়িয়ে যান। গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি মো. হাসান বাসির জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনিয়ম, অসামাজিক কার্যকলাপ এবং স্থানীয় কৃষকদের জমি নষ্টের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত এই পার্কটি এখন সাধারণ মানুষের কাছে 'মরণফাঁদ' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: