নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইরানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ভূপাতিত মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ দ্বিতীয় পাইলটকে এক নাটকীয় ও দুর্ধর্ষ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। উদ্ধার অভিযান চলাকালে মার্কিন ও ইরানি সেনাদের মধ্যে সরাসরি বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা শেষে কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তাকে নিরাপদে ইরানের সীমান্ত পার করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের পর দেশটির অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে ভূপাতিত হয় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি। বিমানে থাকা দুইজন ক্রুর মধ্যে একজন তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার হলেও নিখোঁজ ছিলেন দ্বিতীয় জন। কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা প্যারাশুট নিয়ে পাহাড়ের এমন এক দুর্গম এলাকায় অবতরণ করেন। যেখানে ইরানি বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল।
মাত্র একটি পিস্তল নিয়ে লড়াই
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে শত্রু সীমানার গভীরে কয়েক ঘণ্টা ধরে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই কর্মকর্তা। তার কাছে আত্মরক্ষার জন্য ছিল মাত্র একটি সাধারণ পিস্তল। ইরানি বাহিনী যখন হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছিল, তখন তিনি প্রতিনিয়ত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে তাদের বিভ্রান্ত করেন। সিআইএ-এর পক্ষ থেকেও তখন ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল যে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাতে ইরানিদের তল্লাশি অভিযান ঝিমিয়ে পড়ে।
রাতের অন্ধকারে বিশেষ অভিযান
শনিবার গভীর রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে শুরু হয় সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ মিশন। অভিযানে অংশ নেয়
কয়েক শ মার্কিন স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্য। ডজনখানেক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও এ-১০ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট। সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও নজরদারি ড্রোন।
সম্মুখ যুদ্ধ ও উদ্ধার
উদ্ধারকারী দল যখন পাইলটের অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সেখানে অবস্থানরত ইরানি কনভয়ের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। আকাশ থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করে ইরানি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। এই প্রচণ্ড সংঘাতের মধ্যেই হেলিকপ্টারে তুলে নেওয়া হয় আহত পাইলটকে। লড়াই চলাকালে অন্তত দুটি মার্কিন হেলিকপ্টার গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উই গট হিম: ট্রাম্পের ঘোষণা
ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরে এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের সাফল্য ঘোষণা করে বলেন, উই গট হিম! আমাদের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মিশন এটি। আমরা আমাদের বীর যোদ্ধাকে ফিরিয়ে এনেছি। তিনি আরও দাবি করেন এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য আবারও প্রমাণিত হয়েছে।
ইরানের পাল্টা দাবি
এদিকে ইরান এই উদ্ধার অভিযান নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তল্লাশি চালানোর সময় তারা একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের যাযাবর গোষ্ঠীগুলোও মার্কিন হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে তারা দাবি করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পাইলট উদ্ধারের পর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সমাধান না এলে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ইরানের ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে রাশিয়া।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: