অধিকারপত্র ডেস্ক, ৮ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে, যা বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার পাশাপাশি সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে। আর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান।
বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আড়ালে ও প্রকাশ্যে পাকিস্তানের নিরলস মধ্যস্থতাই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব করেছে। ইসলামাবাদ নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কার্যকর সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, যদিও এ দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। পাকিস্তানের সেই অনন্য অবস্থান—একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক—এ প্রক্রিয়াকে গতি দেয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পরপরই ইসলামাবাদ সক্রিয় হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সরাসরি ওয়াশিংটন, তেহরান, মস্কো, বেইজিং ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। মার্চের শেষ দিকে ইসলামাবাদে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংকট নিরসনের কাঠামো তৈরি হয়।
ওয়াশিংটনভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান এক বিবৃতিতে এ সাফল্যকে ‘পাকিস্তানের বহু বছরের অন্যতম বড় কূটনৈতিক অর্জন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধান সব পক্ষের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক, হোয়াইট হাউসের আস্থা এবং ইরানের ওপর চীনের প্রভাব কাজে লাগানোর সক্ষমতা—এসব পাকিস্তানকে এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সফল করেছে।’
যুদ্ধবিরতির খসড়া প্রস্তাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়, যা এই সংকটের মূল স্পর্শকাতর বিষয় ছিল। ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা আরও টেকসই সমঝোতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি পাকিস্তানের কূটনৈতিক সামর্থ্যের বড় প্রমাণ। এটি দেখিয়েছে, কম দৃশ্যমান হলেও ধারাবাহিক ও গঠনমূলক কূটনীতি আঞ্চলিক সংকটের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: