নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
মুন্সীগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পন্থি প্যানেলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীসহ মোট ১১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। পেশাগত নীতিমালা লঙ্ঘন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে গত ৫ এপ্রিল প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে ১৩ এপ্রিল ৭৫ জন সাধারণ আইনজীবী এবং বৈষম্যবিরোধী জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের স্বজনরা কমিশন বরাবর পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করেন। ওই আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত প্রার্থীরা সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত এবং তারা পেশাগত শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত।
আইনি ভিত্তি ও সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫'-এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে ১২ মে ২০২৫ তারিখে গেজেট প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এটি আইন হিসেবে পাস হয়। কমিশন জানায় ১৩ এপ্রিল প্রাপ্ত দরখাস্তগুলো পর্যালোচনা করে এবং অভিযুক্তদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সত্যতা পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ওই ১১ প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করেন।
যাদের মনোনয়ন বাতিল হলো
সভাপতি পদপ্রার্থী: অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী।
সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী: অ্যাডভোকেট ফিরোজ খান ও অ্যাডভোকেট লাবলু মোল্লা।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী: অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান সবুজ ও অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম সরদার।
অন্যান্য পদপ্রার্থী: অ্যাডভোকেট মো. নয়ন মিয়া (সহ-সাধারণ সম্পাদক), অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা (কোষাধ্যক্ষ), অ্যাডভোকেট প্রিন্স ফয়সাল আহমেদ (দফতর সম্পাদক), অ্যাডভোকেট মৌসুমি আক্তার (মহিলা বিষয়ক সম্পাদক), অ্যাডভোকেট আবু হানিফ হিরু মোল্লা (ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক) এবং অ্যাডভোকেট শাহ আলী দেওয়ান (কার্যনির্বাহী সদস্য)।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান বলেন জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং প্রবর্তিত আইনের আলোকে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আমরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকি প্রার্থীদের অংশগ্রহণে আগামী ২৩ এপ্রিল পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে আরও রয়েছেন পোলিং অফিসার অ্যাডভোকেট আমান উল্লাহ প্রধান শাহীন, অ্যাডভোকেট মো. জাকারিয়া ইসলাম কাঞ্চন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান তুহিন এবং প্রিজাইডিং অফিসার অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আশরাফুল আরেফিন সুমন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সমিতির নির্বাচনী আমেজে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে এবং সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: