odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 29th April 2026, ২৯th April ২০২৬
অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও জোরদার

অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৮ April ২০২৬ ২৩:১৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৮ April ২০২৬ ২৩:১৪

অধিকারপত্র ডটকম 

বিশেষ প্রতিনিধি:

মূল প্রতিবেদন
ঢাকা, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ : আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং অর্থের অভাবে কেউ আইনের আশ্রয় থেকে বঞ্চিত থাকবে না।

রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ঘোষণারও প্রতিফলন। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। সে সময় তিনি দেখেছেন, অনেক অসচ্ছল মানুষ বছরের পর বছর বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন শুধুমাত্র আর্থিক অক্ষমতার কারণে।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার শুধু আদালতের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি। রাষ্ট্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে সেই রাষ্ট্র কখনো মানবিক হতে পারে না।

ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে পারস্পরিক আস্থা, সহমর্মিতা ও সমতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মানুষও যেন অর্থের অভাবে বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি জানান, আদালতের বাইরে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ইতোমধ্যে সফল হয়েছে। এতে স্বল্প সময়ে ও কম খরচে বহু বিরোধ মীমাংসা হয়েছে, আদালতের ওপর চাপ কমেছে এবং সরকারের ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়মতো আইনি পরামর্শ না পেলে ছোট বিরোধ বড় আকার ধারণ করে। তাই লিগ্যাল এইড কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জনগণকে সরকারের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র সবসময় নাগরিকের পাশে রয়েছে এবং লিগ্যাল এইড সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ঢাকার সায়েম খান ও রাজশাহীর নীলিমা বিশ্বাস সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া ব্র্যাকের ‘সমাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচি সেল’ লিগ্যাল এইড কার্যক্রমে অবদানের জন্য স্বীকৃতি পায়।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং আইনগত সহায়তা অধিদফতরের মহাপরিচালক মনজুরুল হাসানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: