অধিকার পত্র ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক :চট্টগ্রাম | ০৪ মে ২০২৬:
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকের সময় গ্রেফতার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার হালিশহর থানায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নোমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর নয়াবাজার বিশ্বরোড এলাকার ‘তায়েফ’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গোপনে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংগঠিত হয়ে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের পাশাপাশি আরও ৯০ থেকে ৯৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— মো. শহিদুল ইসলাম (৩৭), মো. নয়ন (১৯), মেহেদী হাসান সোহান (২১), মো. ইব্রাহীম (২৪), সাজ্জাদ হোসেন রাকিব (২৪), মো. ইসমাইল (২৬), রবিউল ইসলাম রাজু (২০), মো. সাকিল খান (২০), মো. রাজিব (২৯), মো. আশরাফুল (১৯), জাহেদ হোসেন (৩৪), মো. আরিফ (২৫), মো. রাফি (২০) ও ইমাম হোসেন (৩০)।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেফতারদের মধ্যে মো. শহিদুল ইসলাম ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’-এর প্রধান সংগঠক হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। তার কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ফোনগুলোতে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ, চট্টগ্রাম উত্তর ও ফেনী জেলা শিরোনামের একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. সুলতান আহসান উদ্দিন জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হলে আদালত জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: