odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 7th May 2026, ৭th May ২০২৬
পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ঘিরে এখনো বড় মতপার্থক্য ওয়াশিংটন-তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব কী, তাতে কি রাজি হবে ইরান?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৭ May ২০২৬ ২২:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৭ May ২০২৬ ২২:৪৪

অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স,

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত বন্ধে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৪ দফার একটি প্রস্তাব বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে ইরানের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রস্তাবটির বেশ কয়েকটি ধারা তাদের কাছে “অগ্রহণযোগ্য”।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান অন্তত ১২ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে এবং বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এছাড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়পক্ষ প্রণালিতে আরোপিত কার্যকর অবরোধ তুলে নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার মূল জট এখন তিনটি বিষয়ে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে নতুন প্রস্তাবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে “আমেরিকান ইচ্ছার তালিকা” বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি তাদের “লাল রেখা” এবং এটি নিয়ে আপস করা হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে এবং তিনি আশা করছেন দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। ইরান চাইছে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গ্যারান্টি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রোডম্যাপ। এসব নিশ্চিত না হলে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী নয়।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান হয়তো সীমিত সমঝোতায় রাজি হতে পারে, তবে সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা বা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার মতো শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগোলেও পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: