অধিকারপত্র ডটকম
আন্তর্জাতিক ডেক্স,
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে United Arab Emirates সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে গোপন সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঠিক আগে এই হামলাগুলো পরিচালিত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। সে সময় Iran হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও কারা হামলা চালিয়েছে তা প্রকাশ করেনি। পরে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আমিরাতের সম্পৃক্ততার দাবি উঠে আসে।
খবরে বলা হয়, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান আমিরাত ও Kuwait লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলমান সংঘাতে ইসরাইলের তুলনায় আরব আমিরাত বেশি ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত আমিরাত সাম্প্রতিক হামলাগুলোর কারণে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে আরও কঠোর নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করেছে। পর্যটন ও আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে দেশটি সরাসরি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আমিরাতের সামরিক বাহিনীতে উন্নত ফরাসি মিরাজ ও মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি Israel-এর সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও সাম্প্রতিক সময়ে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ইসরাইলি “Iron Dome” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক নৌ জোট গঠনের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে আমিরাত।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের দিকে মোড় নিতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত লাভান দ্বীপ ড্রোন হামলা এফ-১৬ আয়রন ডোম ইসরাইল হরমুজ প্রণালি ভূরাজনীতি

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: