odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 12th June 2026, ১২th June ২০২৬
কৃষি, এসএমই, ক্ষুদ্র শিল্প ও বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবনে সহজ শর্তে ঋণ; উদ্যোক্তাদের জন্য ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি

২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থানে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ June ২০২৬ ২৩:৪২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ June ২০২৬ ২৩:৪২

অধিকার পত্র ডটকম

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা: আগামী অর্থবছরে ২৫ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে সরকার। কৃষি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, সিএমএসএমই খাত এবং বন্ধ বা রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর মাধ্যমে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ‘প্রণোদনা তহবিল ২০২৬’ নামে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা রিফাইন্যান্সিং তহবিল এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে সংস্থান করা হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সহজ শর্তে ও পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং উৎপাদন খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাজেটে পাঁচটি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং সেবা খাতের উন্নয়নে ২০ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা এবং উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের চাহিদা পূরণ এবং উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রণোদনা তহবিলের আওতায় ঋণ গ্রহণকারীদের জন্য সরকার ৬ শতাংশ সুদ ভর্তুকি প্রদান করবে। ফলে উদ্যোক্তাদের প্রকৃত সুদের হার বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হবে। সরকারের মতে, এটি শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করার মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণেও এ তহবিল কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ঘোষিত এই প্রণোদনা কর্মসূচিকে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্প পুনরুজ্জীবন এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: