অধিকার পত্র ডটকম
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়; এটি দেশের সব মানুষের জন্য প্রণীত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট। কৃষক, নারী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, শিল্পী, তাঁতি, কামার-কুমারসহ সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর ছিল, যার ফলে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সুবিধা পেলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অর্থনীতির মূলধারার বাইরে রয়ে গেছে। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য অর্থনীতিকে আরও গণতান্ত্রিক করা এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলের জন্য বাজেট করি না। এমন কোনো বাংলাদেশি নেই, যিনি এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকবেন। সীমিত সম্পদ ও নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আমরা এমন একটি বাজেট তৈরির চেষ্টা করেছি, যাতে সবার জন্য কিছু না কিছু থাকে।”
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যয় কমানো, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যাংক ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং ব্যবসায়িক জটিলতা দূর করার মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে বড় ধরনের বেতন কাঠামো পরিবর্তন হয়নি। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাজেটে নির্দিষ্ট সংখ্যক চাকরির লক্ষ্য উল্লেখ না থাকলেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে পারলে দেশ ও বিদেশ উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে এ খাতে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির জন্য উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দারিদ্র্য ও আয় বৈষম্য কমিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, উপকারভোগী নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসারে সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সুবিধা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং দেশের নাগরিকদের জন্য।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’কে এবারের বাজেটের অন্যতম নতুন উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ কারুশিল্প, তাঁতশিল্প, শীতলপাটি, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তাঁরা একটি দুর্বল ব্যাংকিং খাত পেয়েছেন, যেখানে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট হয়েছে। বর্তমানে খাতটিকে স্থিতিশীল করার কাজ চলছে।
তিনি ইসলামী ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
গভর্নর আরও বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্স’ কাজ করছে। পাশাপাশি আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হবে, যার মাধ্যমে দেশের সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। জমি কেনাবেচার প্রকৃত মূল্য ঘোষণার বিধান করদাতাদের হয়রানি কমানোর উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজ করতে ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারকির জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকারের জন্য বিশেষ ওয়েবসাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, “ব্যবসা খাতে ঘোষিত বিনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ৮০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাবে।”
#এটি_কোনো_দল_বা_গোষ্ঠীর_বাজেট_নয় #অর্থমন্ত্রী #বাজেট২০২৬_২৭ #বাংলাদেশ_অর্থনীতি #সামাজিক_সুরক্ষা #বাংলা_কিউআর #অধিকারপত্র
অর্থমন্ত্রী বাজেট ২০২৬-২৭ আমির খসরু মাহমুদ সামাজিক সুরক্ষা মূল্যস্ফীতি কর্মসংস্থান বাংলা কিউআর বাংলাদেশ ব্যাংক

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: