odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 5th July 2026, ৫th July ২০২৬

কুড়িগ্রামে নদীভাঙন রোধে ৩৩ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪ লাখ জিও ব্যাগের চাহিদা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৪ July ২০২৬ ১৫:০৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৪ July ২০২৬ ১৫:০৯

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার আটটি উপজেলার অন্তত ৩৩টি স্থানে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদী বেষ্টিত কুড়িগ্রামে প্রতিবছরই বন্যা ও নদীভাঙন বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে জেলার পাঁচ উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এতে ৫ হাজার ৪৯২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত তিন মাসে নদীভাঙনে ১৪৯টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে এবং ২০৪ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৩৩টি স্থানে নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যে রৌমারীর চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি এবং রাজিবপুরের কোদালকাটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সুখেরবাতি এলাকার বাসিন্দা ছমিরন বেওয়া বলেন, নদী তার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও নদী রক্ষা ব্যবস্থা না নিলে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

একই এলাকার কৃষক সবুর মিয়া জানান, নদীভাঙনে তার আমন ধানের বীজতলাও নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষায় ২৫০ কেজি ওজনের মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০টি জিও ব্যাগের চাহিদা নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুখেরবাতি এলাকার জন্য ৩৪ হাজার ৬০০টি এবং কোদালকাটি এলাকার জন্য ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: