odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 14th July 2026, ১৪th July ২০২৬
সাইবার মাধ্যমে মাদক কারবারে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড, আদালতের আদেশে জব্দ হবে ডিজিটাল সম্পদ। অনলাইনে মাদক ব্যবসা ঠেকাতে কঠোর আইন; ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র পাবে অধিদপ্ত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কারবারে মৃত্যুদণ্ডের বিধান, সংসদে বিল পাস

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৩ July ২০২৬ ২৩:১০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৩ July ২০২৬ ২৩:১০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও প্রচার রোধে কঠোর অবস্থানে সরকার। এই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিল পাস হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নতুন আইনের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

ডিজিটাল মাধ্যমে নজরদারি: ফেসবুক, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপস, অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, বিজ্ঞাপন বা মধ্যস্থতা করা এখন থেকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার নিষিদ্ধ: মাদক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ই-ওয়ালেট বা বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মাদক উদ্ধার বাধ্যতামূলক নয়: প্রযুক্তিনির্ভর এই অপরাধের ক্ষেত্রে আসামি থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও আর্থিক লেনদেনের রেকর্ডই বিচারের জন্য যথেষ্ট বলে গণ্য হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধে কঠোর সাজা: কোনো সংঘবদ্ধ বা আন্তর্জাতিক চক্র এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিশেষ ট্রাইব্যুনাল: মাদক মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে দেশের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে।

তদন্তে আধুনিক সরঞ্জাম: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি এবং চোরাচালান শনাক্তে ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য:

বিলটি পাসের সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যমান মাদক আইনের আওতায় বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ধরনের মাদক অপরাধ দমনে এই সংশোধনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। সংসদীয় কমিটির সুপারিশ ও সংশোধনীগুলো গ্রহণ শেষে সোমবার এটি চূড়ান্তভাবে আইন হিসেবে পাস হলো।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: