odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 7th September 2026, ৭th September ২০২৬
গলাচিপার গোলখালীতে অসহায় পরিবার ও এতিম শিশুদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রায় ১৫০ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন।

অসহায় পরিবারের পাশে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন, গলাচিপায় মানবিক উদ্যোগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৬ September ২০২৬ ২৩:৪৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৬ September ২০২৬ ২৩:৪৫

অধিকার পত্রডটকম  গলাচিপা, পটুয়াখালী

“মানুষ মানুষের জন্য”—এই কথাটির বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়ে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নে অসহায়, এতিম ও নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলাম ও তাঁর টিমের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে অসহায় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও খাবার বিতরণের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছেন।

সম্প্রতি গোলখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এমন কয়েকটি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

বাবাকে হারানো দুই শিশুর পরিবারের পাশে

গোলখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুহরী ২য় খণ্ডের বাসিন্দা মোঃ রাহাত হাওলাদার (৩৫) সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ে গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে তাঁর পায়ে ক্যান্সার ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুকালে রাহাত হাওলাদার রেখে যান দুই কন্যাসন্তান—জমিলা আক্তার (১২) ও আরিফা (৭)। অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়ে শিশু দুটির পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

এ অবস্থায় হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে আর্থিক সহায়তা ও অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

দুই মসজিদে প্রায় ১৫০ জনের মাঝে খাবার বিতরণ

সংগঠনটির পক্ষ থেকে গোলখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম জামের মসজিদে প্রায় ৮০ জন এবং ডাকুয়ার চর সদর বাড়ির জামের মসজিদে প্রায় ৬০ জনের মধ্যে বিরিয়ানি বিতরণ করা হয়।

দুই স্থানে মোট প্রায় ১৫০ জন মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয় বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্বামীহারা পরিবারের পাশেও সহায়তার হাত

এরপর মানবিক সহায়তার কার্যক্রম পৌঁছে যায় গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অহিদুল মাঝি ঘাতক ডাকাতের হাতে নিহত হওয়ার পর তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়ে।

মৃত্যুকালে অহিদুল মাঝি রেখে যান তিন সন্তান—ছেলে আরাফাত (৯), বড় মেয়ে রিমি (২০) ও মেজ মেয়ে সুমাইয়া (১৬)। স্ত্রী মোসাঃ আসমা বেগম তিন সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে দুর্দশার মধ্যে জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এই পরিবারের দুর্দিনেও পাশে দাঁড়িয়েছে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলামের উদ্যোগে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হয়।

বিভিন্ন এলাকায় চলমান মানবিক কার্যক্রম

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু গোলখালী ইউনিয়ন নয়, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, এতিম ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছেন হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, টিমের সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

‘যতদিন বেঁচে থাকব, অসহায়ের পাশে থাকব’

নিজের মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে হিলফুল ফুজুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুফতি মোঃ সাইফুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন,

“আল্লাহ তায়ালা যতদিন আমাকে এই দুনিয়ায় বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন আমি অসহায়, এতিম ও নিঃস্ব মানুষের পাশে থেকে মানবিক কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।”

তাঁর এই বক্তব্যে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ের কথা উঠে এসেছে। পরিবার হারানো শিশু কিংবা স্বামীহারা নারীর দুর্দিনে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি দেওয়াই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

মানবিকতার এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার চর্চাকে আরও এগিয়ে নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

অসহায়ের মুখে হাসি ফোটানোই হোক মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মোঃ নাসির উদ্দিন | গলাচিপা, পটুয়াখালী

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: