নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে এই মুহূর্তে নতুন কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এ কথা জানান।
আগামী শনিবার ও রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারপারসন হিসেবে সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ব্রিকস সম্মেলনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মেলনে যোগদানের বিষয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। একই সঙ্গে সম্মেলনে কোন কোন দেশের সরকারপ্রধান অংশ নিচ্ছেন, সে বিষয়েও তিনি নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাননি।
ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। পরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য সফরের দিনক্ষণ নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল।
তবে গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দেয়। এর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও গণমাধ্যমকে ইঙ্গিত দেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা কম।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
এদিকে মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ব্রিফিংয়ে ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে কি না জানতে চাইলে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
রণধীর জয়সোয়াল জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভারতীয় দূতের বৈঠকটি ছিল সৌজন্যমূলক। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতা, যোগাযোগব্যবস্থা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া ও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে সামগ্রিক আলোচনা হয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য না আসায় এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অনিশ্চিতই থাকছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: