অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স
সুদানে যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। অবিলম্বে নতুন অর্থায়ন না পেলে দেশটির আশ্রয় ও ত্রাণসামগ্রীর মজুত সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুদানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক নেটওয়ার্কটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইওএম জানিয়েছে, জরুরি অর্থায়ন না এলে প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, সুদানে বর্তমানে প্রায় ৮৬ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। চলমান সংঘাতের পাশাপাশি বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক বাস্তুচ্যুত পরিবারকে আবারও স্থান পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত Common Humanitarian Pipeline-এর মাধ্যমে সুদানের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি আশ্রয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। এই ব্যবস্থা দেশটিতে শতাধিক মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পর্যাপ্ত অর্থায়ন না হলে এই সরবরাহব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ সতর্ক করে বলেছেন, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধসে পড়তে পারে। নতুন অর্থায়ন ছাড়া সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন থাকা মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি, ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির সংকট তৈরি হয়েছে।
মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো বলছে, সংঘাতের পাশাপাশি বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রীর প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা, আইওএম

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: