odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি কমায় ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশ্লেষকের

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, আরও সক্রিয় হতে পারে ইরানপন্থী গোষ্ঠী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৭:৫৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ১৭:৫৮

অধিকারপত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে প্রতিবেশী ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহারের ঘটনায় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাগদাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ ইউনিস।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে তাদের সর্বশেষ সেনাদের প্রত্যাহার করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার কারণে ইরাক বহুবার দুই দেশের পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষক আহমেদ ইউনিসের মতে, ইরাক থেকে পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

তিনি বলেন, পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি না থাকায় এসব গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে নিজেদের ভূমিকা বাড়ানোর এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রভাব সুসংহত করার চেষ্টা করতে পারে।

ইরানপন্থী গোষ্ঠীর উচ্ছ্বাস

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ইরানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী স্বাগত জানিয়েছে।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি এটিকে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স গোষ্ঠী ও দেশটির মানুষের বিজয় এবং মার্কিন প্রকল্পের পরাজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এসব বক্তব্য ওই গোষ্ঠীর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে নতুন পরিস্থিতি

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরাকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাকে সামরিক অভিযান চালানোর পর দেশটিতে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা চলেছে। ওই সময়ের সহিংসতায় দুই লাখের বেশি ইরাকি বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় দুই দশকের সামরিক উপস্থিতিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আলোচনার বিষয়।