“অধিকার পত্র ডটকম”
অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পর দেশটি এখন নতুন এক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। ইরাকে থাকা সর্বশেষ মার্কিন সেনারাও দেশটি ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন আরও বেশি করে ইরাকি সরকারের ওপর বর্তেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে—দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী কি বিদেশি সামরিক সহায়তা ছাড়াই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে?
২৯ সেপ্টেম্বর আল জাজিরার Inside Story অনুষ্ঠানে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক দারিন আবুগাইদার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন হাউস অব ইরাকি এক্সপার্টাইজ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ রুশদি, দ্য সুফান সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেনেথ কাটজম্যান এবং কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আলশায়জি।
শেষ হলো মার্কিন সেনা উপস্থিতির দীর্ঘ অধ্যায়
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানের মধ্য দিয়ে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শুরু হয়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনারা প্রত্যাহার করে নিলেও ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএলের উত্থানের পর ২০১৫ সালে তারা আবার ইরাকে ফিরে আসে।
পরবর্তী সময়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের মূল লক্ষ্য ছিল আইএসআইএলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ও ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তা করা। ২০১৭ সালে আইএসআইএল তার নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের বড় অংশ হারানোর পর জোটের ভূমিকা ধীরে ধীরে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।
এখন সেই সামরিক অধ্যায়েরও অবসান ঘটেছে।
নিরাপত্তার দায়িত্ব ইরাকি বাহিনীর হাতে
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীকে এখন আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আইএসআইএলের অবশিষ্ট সদস্যদের মোকাবিলা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দেশের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী, কুর্দিস্তানের পেশমার্গা এবং অন্যান্য স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীই এখন ইরাকের নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তার মতো কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বড় চ্যালেঞ্জ
ইরাকের সামনে অন্যতম বড় প্রশ্ন হলো—দেশের সব অস্ত্র ও সশস্ত্র শক্তিকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে কি না।
প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সরকার দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক এবং তাদের অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই জটিল।
আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব
ইরাক এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে ইরান, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন শক্তির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িত। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সংঘাতের প্রভাব ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।
বিশেষ করে উত্তর ইরাকে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পর আকাশসীমার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্র কি পুরোপুরি সরে যাচ্ছে?
সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার হলেও ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অর্থ এটি নয়। দুই দেশের সম্পর্ককে সামরিক সহযোগিতা থেকে অর্থনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার দিকে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের বড় দূতাবাস এবং এরবিলে কনস্যুলেটসহ কূটনৈতিক উপস্থিতি থাকছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে সীমিত সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ইরাকের জন্য একদিকে সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে একই সঙ্গে এটি দেশটির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের বড় পরীক্ষা।
আইএসআইএলের অবশিষ্ট তৎপরতা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা—সবগুলো বিষয়ই বাগদাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
আল জাজিরার Inside Story-তে আলোচনার মূল প্রশ্ন ছিল, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই ইরাক তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে এবং নতুন বাস্তবতায় দেশটির সরকার কীভাবে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলা করবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা চলে গেল, এবার নিরাপত্তা সামলাবে কে? সামনে বড় পরীক্ষা বাগদাদের
#ইরাক #মার্কিনসেনা #Iraq #IraqSecurity #USIraq #ISIS #মধ্যপ্রাচ্য #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #MiddleEast #অধিকারপত্র
