odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd October 2026, ২nd October ২০২৬
উপাচার্যকে দেওয়া চিঠিতে তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন; অভিযোগ প্রত্যাহার, শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি।

ঢাবিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক’, জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারে নীল দলের প্রতিবাদ

Odhikarpatra News Desk | প্রকাশিত: ২ October ২০২৬ ০১:০৭

Odhikarpatra News Desk
প্রকাশিত: ২ October ২০২৬ ০১:০৭

বিশেষ প্রতিবেদন, ঢাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দিয়েছে নীল দল। ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের চিঠিতে সংগঠনটি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ করেছে। তদন্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ প্রত্যাহার, শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে নীল দলের বক্তব্য, দাবির প্রেক্ষাপট এবং সংযুক্ত নথিতে অনুপস্থিত তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রমকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাঁদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় উপাচার্যের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা।

১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর দেওয়া এক চিঠিতে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়। চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সংযুক্ত নথিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের ১ অক্টোবরের গ্রহণসিলও দেখা যায়।

নীল দলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা ন্যায়সংগত নয়। সংগঠনটির অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত না হলেও বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, এ পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষককে ঘিরে বহিষ্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নীল দল এই ধারাবাহিকতাকে শিক্ষকদের পেশাগত জীবন এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে সংযুক্ত নথিতে ওই ১১ জন শিক্ষকের নাম, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পৃথক বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলোর অনুলিপি দেওয়া হয়নি।

জিনাত হুদার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ

চিঠিতে অধ্যাপক জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে চলমান ব্যবস্থাগুলোর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নীল দলের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। স্মারক লিপিতে সংগঠনটির পক্ষে কা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক জিনাত হুদা অভিযোগের স্বরে উল্লেখ করেছেন, ”এই সাময়িক বহিস্কারাদেশের আগেই তাঁকে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অবৈধভাবে অপসারণ করা হয়েছিল।”

নীল দলের বক্তব্যে এই দুটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়নি। বরং সংগঠনটি এগুলোকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চলমান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি, তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা নিশ্চিত না করে শিক্ষকদের পেশাগত অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।

তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

নীল দলের চিঠির অন্যতম প্রধান বক্তব্য হলো, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধান কমিটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে আপত্তি। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, এসব কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে।

চিঠিতে তদন্ত ও তথ্য অনুসন্ধানের নামে পরিচালিত কার্যক্রমকে প্রহসন হিসেবে অভিহিত করা হয়। সংগঠনটির দাবি, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বানানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; অভিযোগের সত্যতা না পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এ বক্তব্যের মাধ্যমে নীল দল তদন্ত থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে কমিটি গঠন, অভিযোগের ভিত্তি এবং সেই অভিযোগের ওপর নির্ভর করে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো। চিঠিতে ১৯৭৩ সালের আদেশের লংঘন বলে উল্লেখ তরা

আগের আবেদনেও প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ

নীল দল জানিয়েছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তাঁদের দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উপাচার্যের কাছে আবেদন করা হয়েছে। চিঠিতে স্মারকলিপি দেওয়া ও আলোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য, এসব উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চলমান ব্যবস্থা বন্ধ করা এবং তাঁদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু পূর্ববর্তী আবেদন ও আলোচনার পরও প্রত্যাশিত প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তারা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সহকর্মী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে তাঁরা ন্যায়সংগত আচরণ প্রত্যাশা করেছিলেন। নীল দলের দাবি, সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার পরিবর্তে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিকে সংগঠনটি অপ্রত্যাশিত, দুঃখজনক ও নিন্দনীয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর মধ্য দিয়ে নীল দল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে তাদের বিরোধের দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছে। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি কেবল সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়; আগের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি এবং শিক্ষকদের পেশাগত অবস্থান পুনরুদ্ধারের দাবিও এর সঙ্গে যুক্ত।

অভিযোগ প্রত্যাহার ও দায়িত্বে ফেরানোর দাবি

চিঠির শেষাংশে নীল দল সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য-প্রনোদিতভাবে অভিযোগগুলো প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সম্মানের সঙ্গে তাঁদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সংগঠনটি।

এই দাবির মধ্যে অভিযোগ প্রত্যাহারের পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। নীল দলের বক্তব্য অনুযায়ী, বহিষ্কার, ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং দায়িত্ব থেকে অপসারণের মতো পদক্ষেপ শিক্ষকদের কর্মজীবন ও সম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

অধ্যাপক জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কারের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সংগঠনটি বৃহত্তর পরিসরে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থাগুলোর প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আহ্বান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন চলমান পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়।

প্রতিবেদনটির ভিত্তি: উপাচার্য বরাবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের স্মারকলিপি।

#ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #জিনাত_হুদা #নীল_দল #শিক্ষক_অধিকার #শিক্ষকের_মর্যাদা #একাডেমিক_স্বাধীনতা #বিশ্ববিদ্যালয়_প্রশাসন #ন্যায্য_প্রক্রিয়া #শিক্ষাঙ্গন #অধিকারপত্র