odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 4th October 2026, ৪th October ২০২৬
নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগলে করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আবুল কাশেম নিহত; হত্যা মামলায় একই পরিবারের সাতজন গ্রেপ্তার ও ছুরি উদ্ধার।

ছাগলে করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নওগাঁয় নিহত ১; গ্রেপ্তার ৭

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ২২:৩৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ২২:৩৩

অধিকার পত্র ডটকম | নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগলে জমির করলা গাছ খেয়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবুল কাশেম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় একই পরিবারের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার রাতে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—ধামইরহাট উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), মৃত আব্দুল গফুরের দুই ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০) ও মো. কফিল উদ্দিন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম রনির স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার সাতজন একই পরিবারের সদস্য। নিহত আবুল কাশেম একই গ্রামের মৃত রাজ মাহমুদ মন্ডলের ছেলে।

করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাকিবুল ইসলাম রনির জমিতে থাকা করলা গাছ একটি ছাগল খেয়ে ফেলে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম ও রনির পরিবারের সদস্যদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ বলছে, মারামারির সময় রাকিবুল ইসলাম রনি ধারালো চাকু দিয়ে আবুল কাশেমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে কাশেমসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল কাশেমের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মুক্তার আলী, ভাইয়ের স্ত্রী রেখা বেগম, বড় ভাই বদিউল ইসলাম এবং ছোট ভাই ইমরান আলী আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহতদের জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতের স্ত্রীও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হত্যা মামলা, রাতেই গ্রেপ্তার ৭

ঘটনার পর নিহত আবুল কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। পরে হত্যা মামলা দায়ের হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রাতেই সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি রয়েছে কি না এবং সংঘর্ষের পুরো ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

 

 

ছাগলে করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল কাশেমের; রাতেই গ্রেপ্তার ৭

#নওগাঁ #ধামইরহাট #হত্যা #সংঘর্ষ #গ্রেপ্তার #করলাগাছ #ছাগল #অপরাধ #অধিকারপত্র