odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 9th October 2026, ৯th October ২০২৬
পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল শিল্পপণ্য হিসেবে বাংলাদেশের পাটের বৈশ্বিক অবস্থান শক্তিশালী করার আহ্বান

পাটের নতুন বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রবেশে জোর শামা ওবায়েদের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ October ২০২৬ ২৩:৫৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ October ২০২৬ ২৩:৫৬

অধিকারপত্র ডটকম ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি, বলেছেন, বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাটকে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল শিল্পপণ্য হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। এ জন্য পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, উচ্চ মূল্য সংযোজন, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান বাজার ও সরবরাহ চ্যানেলগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

৬ অক্টোবর পাট বহুমুখীকরণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জেডিপিসি) এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্য মেলা পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পাট খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যৌথ অর্থনৈতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’র সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করা, আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি, বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

পরিদর্শনকালে শামা ওবায়েদ পাটজাত পণ্যের উচ্চ মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পণ্য ও বাজার তৈরির সুযোগ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্যোক্তাদের উৎপাদন, পণ্য উদ্ভাবন, বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবহিত হন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাটকে শুধু ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য হিসেবে দেখলে হবে না; বরং পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল শিল্পপণ্য হিসেবে এর আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

পাটের ন্যায্য দাবি ও সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে আরও কাঠামোবদ্ধ ও কার্যকর সংলাপ প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ (COP31)-কে বাংলাদেশের পাট খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পণ্যের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিবর্তনশীল বাজার বাস্তবতায় বাংলাদেশের পাটের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবুজ বাণিজ্যের দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরে বাংলাদেশের ‘সোনালি তন্তু’ পাটের একটি সুস্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। এখন মূল কাজ হলো সেই সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে উচ্চমূল্যের পণ্য, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং বৃহত্তর বাজার প্রবেশাধিকারে রূপান্তর করা।

তিনি পাট খাতের উদ্যোক্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নতুন পণ্য উদ্ভাবন, মানোন্নয়ন ও বাজারজাতকরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।