নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম
সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে আদালতের আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বা দুদকের মূল আবেদনপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আদালতের আদেশ
আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মনিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হিসাবগুলো অবরুদ্ধ রাখার মেয়াদ ও আদেশের অন্যান্য বিস্তারিত শর্ত আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশে নির্ধারিত হয়ে থাকতে পারে। প্রকাশিত সংবাদপ্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যাঁদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ
দুদকের আবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, মনিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা হিসাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- মো. মনিরুল ইসলাম: ১১টি ব্যাংক হিসাব।
- সায়লা ফারজানা: পাঁচটি ব্যাংক হিসাব। তিনি মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব।
- রেজাউল আলম শাহীন: ৪০টি ব্যাংক হিসাব। তিনি মনিরুল ইসলামের শ্যালক।
- সানজিদা খানম টুম্পা: ২৭টি ব্যাংক হিসাব। তিনি রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী।
সব মিলিয়ে হিসাবের সংখ্যা ৮৩টি। এসব সংখ্যা দুদকের আবেদনে উল্লিখিত বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে; আদালতের পূর্ণাঙ্গ নথি ছাড়া তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দুদকের অভিযোগ
দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি বেসরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের সম্পদ থাকার তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে দুদক।
তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য বা প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
বিদেশে অর্থ পাচারের আশঙ্কা: দুদকের বক্তব্য
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
দুদকের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট অর্থ স্থানান্তর বা সম্পদ হস্তান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে অনুসন্ধান চলাকালে অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে ঢাকা পোস্টসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে হিসাবগুলোতে জমা অর্থের মোট পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আদালতের আদেশ বা দুদকের মূল নথির মাধ্যমে অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় এ প্রতিবেদনে মোট অর্থের অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। একই কারণে অভিযোগের বিস্তারিত ও সংশ্লিষ্ট নথির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে প্রাথমিক প্রতিবেদন হিসেবে দেখা উচিত।
সতর্কীকরণ: দুদকের আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট অভিযোগ। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে চূড়ান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়; এটি অনুসন্ধান চলাকালে সম্পদ বা অর্থের অবস্থান সুরক্ষিত রাখার একটি আইনি পদক্ষেপ।
মনিরুলের পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক
#মনিরুলইসলাম #দুদক #ব্যাংকহিসাবঅবরুদ্ধ #দুর্নীতিরঅভিযোগ #আদালত #বাংলাদেশ #অধিকারপত্রডটকম
