odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st October 2026, ২১st October ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা, তবে ৩ নভেম্বরের আগে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের নেতানিয়াহুকে সমর্থন, ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২০ October ২০২৬ ১৮:৪০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২০ October ২০২৬ ১৮:৪০

অধিকারপত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক :

২০ অক্টোবর ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন। এর মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এবং তেহরানের উদ্বেগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা এবং নতুন করে হামলার আশঙ্কার কারণে ইরান দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী নয়। ইরানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।

নেতানিয়াহুর পাশে ট্রাম্প

রোববার (১৮ অক্টোবর) ট্রাম্প ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বার্তায় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাঁকে নিজের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের এই সমর্থন এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল এবং দুই দেশের নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

 ইরানে নতুন হামলার আলোচনা কত দূর?

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের ১৩ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের বিষয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ এ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছিল।

এ ছাড়া ৭ অক্টোবরের আরেক প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস জানায়, ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে হামলার নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ বা ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

 নির্বাচনের আগে হামলা হবে কি?

ট্রাম্প ৮ অক্টোবর জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথাও বলেছিলেন।

তবে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি নতুন হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফর এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনা পরিস্থিতিটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচনার টেবিলে কী নিয়ে বিরোধ?

যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু থেকেই গুরুত্ব পাক। অন্যদিকে তেহরান আলোচনার আগে নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং চলমান শত্রুতা বন্ধের মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি চায়। হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ব্যবধান রয়েছে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

 সামনে কী হতে পারে?

ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সামরিক আলোচনা এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির খবর থাকলেও হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত নয়।

তাই ট্রাম্পের নেতানিয়াহুকে সমর্থনকে নতুন হামলার নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, সামরিক প্রস্তুতি এবং দুই দেশের নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ সংকটের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স, অ্যাক্সিওস এবং ট্রাম্পের প্রকাশ্য বিবৃতি।

 

 

নেতানিয়াহুর পাশে ট্রাম্প, ইরানে কি আবার হামলা? মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে নির্বাচনে সমর্থন দিয়েছেন। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা এবং তেহরানের উদ্বেগ বাড়ছে। তবে ৩ নভেম্বরের আগে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাহলে কি কূটনীতির পথেই সমাধান, নাকি আবারও সামরিক সংঘাত?

#Trump #Netanyahu #Iran #Israel #USIranTensions #MiddleEast #আন্তর্জাতিক #অধিকারপত্রডটকম