odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 24th October 2026, ২৪th October ২০২৬
নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে রায়ের অনুলিপি ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ; মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ও পুনর্বাসনের উদ্যোগের কথাও জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

সৌদি আরবের কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি, দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের তথ্য চেয়েছে ঢাকা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৩ October ২০২৬ ২০:৪০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৩ October ২০২৬ ২০:৪০

 অধিকারপত্র ডটকম | কূটনীতিক  প্রতিবেদন

ঢাকা:সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই সঙ্গে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দেশটির সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ ঢাকায় ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরের কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বন্দিদের তালিকা পাঠিয়ে তাঁদের কারাবাস ও দণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশকে অবহিত করে।

 দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের অনুলিপি চেয়েছে বাংলাদেশ

প্রতিমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য থেকে জানা গেছে। তাঁদের শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও এ বিষয়ে আগে বাংলাদেশকে জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো বাংলাদেশের হাতে আসেনি। মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি।

ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকারকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। সেটি পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।

 আগের সরকারগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে আগে কেন তথ্য পাওয়া যায়নি, তা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনা ২০২৩ সালে ঘটে থাকলে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। এরপর প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। বর্তমান সরকারের ছয় মাসের সময়কালেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ঘটনার বিস্তারিত জানতে চায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চায়। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টির সমাধান করতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও বিচারব্যবস্থা রয়েছে। তবে কোনো বিদেশি নাগরিক দণ্ডিত হলে বা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দেশের বিষয়টি জানার প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চেয়েছে।

 ভিসার মেয়াদ ও পুনর্বাসন নিয়ে উদ্যোগ

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ।

তিনি জানান, দেশে ফিরে আটকে পড়া প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলো কাজ করছে। সংঘাতের কারণে যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের দেশে পুনর্বাসন অথবা নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে।

সৌদি আরবে বন্দি বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সরকার।