odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 30th October 2026, ৩০th October ২০২৬
চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি এবং বেসরকারি খাতে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর।

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আলোচনায় নতুন সম্ভাবনা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ October ২০২৬ ০৬:২০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ October ২০২৬ ০৬:২০

ঢাকা | ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | অধিকার পত্র ডটকম

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সামনে রেখে চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষর এবং প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি বৃহস্পতিবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আলোচনায় গুরুত্ব

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা।

২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপানি একটি প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

ছয়টি সমঝোতা দলিল ও ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ

সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ইয়েন-লোন প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তি হয়েছে।

ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি আগ্রহপত্র।

ঋণ সহায়তার দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা।

 বেসরকারি খাতে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক

সরকারি পর্যায়ের চুক্তির পাশাপাশি জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। খাতগুলো হলো—

* অটোমোবাইল উৎপাদন।

* জ্বালানি।

* প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাত।

* উচ্চগতির রেল ও লজিস্টিকস।

* কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 ইউনিক্লো, মিতসুই ও সুমিতোমোর সঙ্গে বৈঠক

সফরকালে জাপানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, উন্নয়ন সহযোগী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

তাঁদের মধ্যে ছিলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা।

এ ছাড়া পোশাকশিল্পের জায়ান্ট ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরা-সহ বড় বড় জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।

 জাপানের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শন

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জাপানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

২৭ অক্টোবর ফুত্তসুতে জেরার এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়াতে নিতসুর লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নাগোয়া সফরে গিয়ে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোতোমাচি কারখানা এবং টয়োটা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জাপানের আধুনিক গাড়ি উৎপাদন প্রযুক্তি ও শিল্পব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা নেন।

 অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন কাঠামো তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগনির্ভর নতুন পর্যায়ে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আলোচিত ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এখনো আলোচনাধীন প্রস্তাব; এটি চূড়ান্ত বিনিয়োগ বা বাস্তবায়িত অর্থ নয়।

 

 

 

: জাপান থেকে কী নিয়ে ফিরলেন তারেক রহমান? ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আলোচনা, ৬ চুক্তি ও ১৭ সমঝোতা স্মারক!

মেটা বর্ণনা: চার দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ আলোচনা, ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল এবং ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ।

 

হ্যাশট্যাগ: #তারেকরহমান #জাপানসফর #বাংলাদেশজাপান #জাপানিবিনিয়োগ #টয়োটা #অর্থনৈতিকসম্পর্ক #বাংলাদেশ #অধিকারপত্রডটকম