odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 4th November 2026, ৪th November ২০২৬
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্য সহজ করতে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ে গুরুত্ব; আইওএমের ২০২৭–২০৩১ কৌশলগত রূপরেখায় চারটি সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত

প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৪ November ২০২৬ ১৮:৫৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৪ November ২০২৬ ১৮:৫৫

অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক  :

*ঢাকা, ৪ নভেম্বর ২০২৬: :আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী অপরাধ ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর এবং আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭–২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ পরিস্থিতিতে আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় গুরুত্ব

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে তথ্য ও কার্যক্রমের সমন্বয় বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার।

সরকারের জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের পাঁচ বছরব্যাপী কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।

বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শুধু প্রযুক্তিনির্ভর হলে চলবে না উল্লেখ করে তিনি মানবাধিকার, ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সমন্বয়

মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

আইওএমের প্রস্তাবিত রূপরেখায় চারটি সহযোগিতার ক্ষেত্র

অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে পরিবর্তিত ভ্রমণব্যবস্থা ও কার্যক্রমের চাহিদা মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন।

তিনি জানান, কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

আইওএমের প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখায় সম্ভাব্য সহযোগিতার চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—

১. সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা।
২. ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি।
৪. নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন।

রূপরেখাটি সরকারের জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদের পাঁচ বছরব্যাপী কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন কাঠামো বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উপস্থিতি

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

 

 

বিমানবন্দর-স্থলবন্দরে আধুনিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ার উদ্যোগ, মানবপাচার ও সীমান্ত অপরাধ ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে

: #ইমিগ্রেশন #সীমান্তনিরাপত্তা #স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী #সালাহউদ্দিনআহমদ #আইওএম #বাংলাদেশ #মানবপাচারপ্রতিরোধ #ডিজিটালবাংলাদেশ #Odhikarpatra