odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 9th November 2026, ৯th November ২০২৬
৭ নভেম্বরকে জনগণের জেগে ওঠা ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের জনগণ এখনো এই চেতনা নিয়ে জেগে আছে।

৭ নভেম্বরের চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলেছে: রিজভী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ November ২০২৬ ২৩:৫৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ November ২০২৬ ২৩:৫৭

।

অধিকারপত্র ডেস্ক রিপোর্ট :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনটি অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের জেগে ওঠা এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পেছনে ৭ নভেম্বরের চেতনা প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও পরবর্তী সময়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে নানা সংকট তৈরি হয়। এ সময় প্রতিবাদকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সে সময় রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র বন্ধ করে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ ও সৈনিকরা রাজপথে নেমে আসে। তার ভাষায়, ৭ নভেম্বর ছিল সৈনিক-জনতার একটি অভূতপূর্ব বিপ্লব, যা বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের সমর্থনে নেতৃত্ব গ্রহণের পর দেশে রাজনৈতিক বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পথ উন্মুক্ত করেন। তার সময়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চালু হয় এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আবার রাজনীতির সুযোগ পায়।
জিয়াউর রহমানের সময়কার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে দেশের অর্থনীতিতে গতি আসে। কলকারখানার উৎপাদন সচল হয় এবং গ্রাম পুলিশ ও মহিলা পুলিশ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।


১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উভয় ক্ষেত্রেই মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে দেশে দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নেন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ঘটে।


তিনি গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের হত্যার বিচার দাবি করেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদসহ আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের জনগণ ও জাতীয়তাবাদী শক্তি ৭ নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে এখনো নির্ভীক ও অতন্দ্রভাবে জেগে আছে। বাংলাদেশকে কারও সেবাদাস হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপির রাজনীতি সহজ-সরল পথের রাজনীতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের অঙ্গীকার থেকে সরে যাননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রুহুল কবির রিজভী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পবিত্র কোরআন শরিফসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।

 


 ৭ নভেম্বরের চেতনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়েছে: রিজভী
মেটা ডেসক্রিপশন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে ৭ নভেম্বরের চেতনাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের জাগরণ ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী।

 #৭নভেম্বর #রুহুলকবিররিজভী #বিএনপি #অধিকারপত্র