odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 4th February 2026, ৪th February ২০২৬
গলাকাটা নাটক

চারদিকে গুজবভিত্তিক আতঙ্কের মধ্যে ব্লেড দিয়ে নিজের হাতের তালু কেটে 'গলাকাটা নাটক

gazi anwar | প্রকাশিত: ২৪ July ২০১৯ ০২:৪৪

gazi anwar
প্রকাশিত: ২৪ July ২০১৯ ০২:৪৪

চারদিকে গুজবভিত্তিক আতঙ্কের মধ্যে ব্লেড দিয়ে নিজের হাতের তালু কেটে 'গলাকাটা নাটক' সাজাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ল এক কিশোর।

সোমবার রাতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের পেরীর চর গ্রামের এ ঘটনা মঙ্গলবার জানাজানি হয়।

তানিম নামে এক কিশোর এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সে সান্দিকোনা বাজারের সানরাইজ কিন্ডারগার্টেনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবার বাড়ি নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজিপুর গ্রামে।  বাবার নাম গোলাপ মিয়া।

তিন বছর আগে সান্দিকোনার পেরীর চর গ্রামের খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করার জন্য আসে তানিম। তার খালার নাম সেলিনা আক্তার এবং খালুর নাম নাজিম উদ্দিন।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে বিভিন্ন মোবাইল থেকে ফোন আসে সান্দিকোনা ইউনিয়নের পেরীর চর গ্রামে একটি ছেলের মুখে অজ্ঞানের স্প্রে দিয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির পাশে নির্জন রাস্তায় গলাকাটার উদ্দেশে আঘাত করে ফেলে রেখে যায় দূর্বৃত্তরা। তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় স্বজনরা কেন্দুয়া উপজেলা আদমপুর হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যায় পুলিশ।

তিনি জানান, হাসপাতালে গিয়ে তানিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিতে থাকে। বিষয়টি নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়াকে জানানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেন্দুয়া থানার ওসিকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতালে গিয়ে তানিমের বক্তব্যে সন্দেহ হলে পেরীর চর গ্রামে গিয়েও ঘটনাস্থলের আশেপাশে ও বাড়ির লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ জানায়, এসময় তানিমের খালার বাড়িতে তার পড়ার টেবিলের ওপর থেকে একটি রক্তমাখা ব্লেড উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশের সন্দেহ হলে তানিমকে নিয়ে থানায় আসে। থানায় আনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে পুলিশকে জানায়- তার খালা এবং খালুর পরামর্শে গলাকাটা গুজব রটাতে সে এরকম ঘটনা সাজায়।

সান্দিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল ইসলাম জানান, গলাকাটার নাটক সাজাতে এ রকম একটি বানোয়াট ঘটনা প্রচার করা হচ্ছে।

কেন তারা এমনটি করেছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক তদন্তে বেড়িয়ে এসেছে তানিমকে দিয়ে গলাকাটার গুজব ছড়াতেই এরকম একটি ঘটনা সাজানো হয়েছিল। এ বিষয়ে আরো তদন্ত চলছে, ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: