odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 6th November 2026, ৬th November ২০২৬
১১ হাজারের বেশি অভিযানে ১ লাখ ৪৬ হাজার বিদেশির নথি যাচাই; ৪৫ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া।

মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে আটক ৬৫ হাজার বিদেশি, বাংলাদেশিরাও রয়েছেন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ২২:৪৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ২২:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ২৮৭ দিনে বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি বিদেশির নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির নথিপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

 যেসব কারণে আটক হচ্ছেন বিদেশিরা

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের মতো বিষয় শনাক্ত করা হচ্ছে।

আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেবল বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগেই নয়, অবস্থানের অনুমতিপত্রের শর্ত লঙ্ঘন এবং অভিবাসন আইনের অন্যান্য বিধি ভঙ্গের অভিযোগেও বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 নির্মাণস্থলে অভিযানে আটক ৫৫ বিদেশি

সম্প্রতি কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালায় অভিবাসন বিভাগ। সেখানে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করে ৫৫ জনকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়।

পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

 অবৈধভাবে দেশ ছাড়তে সহায়তার অভিযোগে আটক ১১ মিয়ানমারের নাগরিক

মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের বের করে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, তাঁদের একজন বাকি ১০ জনকে অবৈধভাবে দেশ ছাড়তে সহায়তা করছিলেন। ওয়াকাফ চে ইয়ে এলাকার একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাকি ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক লোকমান এফেন্দি জানান, মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 অভিবাসন ডিপোগুলোতে বাড়ছে চাপ

অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের কারণে মালয়েশিয়ার অভিবাসন ডিপোগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে অভিবাসন ডিপোগুলোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। নিয়মিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সেখানে রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে চাপ বাড়ছে।

বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষ এলাকাভিত্তিক মানচিত্র তৈরি করেছে অভিবাসন বিভাগ। এর মাধ্যমে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন বা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ নথিবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহারকারী, অনুমতিপত্রের অপব্যবহারকারী এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযানে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষও অংশ নিচ্ছে।

 মালয়েশিয়ার কারাগারে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি

একই সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার কারাগারগুলোর বন্দিসংখ্যা ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল।

তিনি জানান, দেশটির ৪১টি কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাঁদের আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত। বন্দিদের বড় একটি অংশ বিপজ্জনক মাদক আইন, ১৯৫২-এর বিভিন্ন ধারায় সংশ্লিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত বা আটক রয়েছেন।

কেলান্তানের কোটা ভারুর পেঙ্গকালান চেপা কারাগার অতিরিক্ত বন্দির চাপে থাকা কারাগারগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বন্দিদের মধ্যে ১৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী। ১৫ বছরের কম বয়সীদের মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িয়ে পড়াও উদ্বেগের বিষয়। বেকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদকের অপব্যবহারের প্রবণতা বেশি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 কয়েকটি রাজ্যে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার বেশি

মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বেশি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিম উপকূলে কৃত্রিম ও অ-কৃত্রিম—দুই ধরনের মাদকের ব্যবহারই দেখা যাচ্ছে। সহজলভ্যতার কারণে কৃত্রিম মাদকের ব্যবহার বাড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেলান্তান, কেদাহ, পারলিস ও তেরেঙ্গানু রাজ্যে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি।

কেদাহর পেনদাং জেলায় এ হার সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে কেলান্তানের কুয়ালা ক্রাই। এ ছাড়া কেলান্তানের তুমপাত, তানাহ মেরাহ ও বাচোক এবং তেরেঙ্গানুর বেসুত জেলায় প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে এ হার এক হাজার ছাড়িয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে মাদক প্রতিরোধ ও আইন প্রয়োগের কার্যক্রম আরও সুনির্দিষ্ট করা হবে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় মাদকবিরোধী সংস্থা, পুলিশ ও রাজ্য সরকারগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদারের পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের রাখার ব্যবস্থা এবং কারাগারে অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলানো দেশটির কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

 

 

: মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান, ২৮৭ দিনে আটক ৬৫ হাজারের বেশি

🇲🇾 **মালয়েশিয়ায় ২৮৭ দিনে আটক ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি, রয়েছেন বাংলাদেশিরাও**

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এ সময়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি বিদেশির নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে।

📌 আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারেরও বেশি জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

📌 বৈধ নথি না থাকা, অনুমতির মেয়াদ অতিক্রম এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালানো হচ্ছে।

📌 বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিকদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি আটক ও ফেরত পাঠানোর তালিকায় রয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসন অভিযান, বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি এবং সর্বশেষ তথ্য জানতে চোখ রাখুন **অধিকার পত্র ডটকমে**।

#মালয়েশিয়া #বাংলাদেশি #প্রবাসী #অভিবাসন #ইমিগ্রেশন #MalaysiaNews #OdhikarPatra