odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
কৃষক কার্ড, সার আমদানি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পক্ষে বক্তব্য; অতীতের সরকারের প্রতিশ্রুতি ও শাসনামল নিয়েও সমালোচনা বিএনপির নেতার।

বর্তমান সরকার জনবান্ধব, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অপপ্রচার না করার আহ্বান রিজভীর

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ২৩:৪১

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৭ October ২০২৬ ২৩:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। এসব উদ্যোগের সমালোচনা করতে হলে তা তথ্যভিত্তিক, সত্য ও ন্যায়সংগত হওয়া প্রয়োজন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (জেটেব) উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেটেবের সভাপতি ফখরুল আলম।

ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য কমার দাবি

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। জনগণ এ ধরনের অপপ্রচার বিশ্বাস করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ডের সম্ভাব্য সুফল তুলে ধরে রিজভী বলেন, দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের অভিমত অনুযায়ী, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কমে যাবে। তাঁর মতে, কোনো উদ্যোগের ইতিবাচক দিক বিবেচনা না করে মিথ্যা প্রচার চালানো দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় নয়।

তবে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশ কমার দাবির পক্ষে সমাবেশে তিনি কোনো নির্দিষ্ট গবেষণা বা অর্থনীতিবিদের নাম উল্লেখ করেছেন কি না, সরবরাহ করা প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট নয়।

কৃষকদের সহায়তায় মাসে আড়াই হাজার টাকার কথা

কৃষক কার্ডের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এর মাধ্যমে প্রান্তিক, দরিদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের হাতে মাসে অন্তত ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ কৃষিঋণ এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এসব ঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকেরা হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নেওয়া এসব উদ্যোগের ইতিবাচক দিক বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সার আমদানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে বক্তব্য

দেশে সারের সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি করা হচ্ছে। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আনা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সারের একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে এবং সৌদি আরব থেকেও সারবাহী জাহাজ আসছে।

তিনি বলেন, শীতকালীন শাকসবজির মৌসুম সামনে রেখে আলু, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপির উৎপাদনের জন্য সারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে।

গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সার কারখানা চালু রাখতে গ্যাস প্রয়োজন, আবার রান্নার কাজেও গ্যাস লাগে। সংকটের কারণে সার কারখানা বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ অবস্থার মধ্যেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অতীতের সরকারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, একটি গণবান্ধব সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের দুঃখ-কষ্ট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

অতীতের সরকারের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিনামূল্যে সার, ঘরে ঘরে চাকরি ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা জনগণের কাছে সত্য কথা বলেন এবং সত্য অঙ্গীকার করেন, তাঁদের পালিয়ে যেতে হয় না; জনগণের সমর্থন নিয়েই তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে হয়।

 শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে অভিযোগ

শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, ওই সময়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আদালত ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেখ হাসিনা তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

 

 

‘সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে অপপ্রচার নয়’—কী বললেন রিজভী?

বর্তমান সরকারকে জনবান্ধব উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক উদ্যোগ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সমালোচনা করতে হলে তা হতে হবে তথ্যভিত্তিক ও ন্যায়সংগত। একই বক্তব্যে কৃষকদের সহায়তা, সার আমদানি, গ্যাস সংকট এবং শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়েও কথা বলেন তিনি।

বিস্তারিত পড়ুন অধিকার পত্র ডটকমে।

হ্যাশট্যাগ: #রুহুলকবিররিজভী #বিএনপি #ফ্যামিলিকার্ড #কৃষককার্ড #সামাজিকসুরক্ষা #রাজনীতি #অধিকারপত্রডটকম