অধিকার পত্র ডটকম | নিজস্ব প্রতিবেদন
সুনামগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তাঁর পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। প্রিন্সের ১৬ বছর বয়সী ছোট বোন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত বলে জানিয়েছে দৈনিক ইত্তেফাক।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স (২০), তাঁর বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী, মা শাম্মী আক্তার পলি, ভাই শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল এবং ছোট বোন। এ ছাড়া তাঁর তিন বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল হাসপাতালে?
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে ২৯ অক্টোবর রাতে প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নেওয়া হয়।
পুলিশের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা হাসপাতালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশের ওপর হামলা চালান।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের
প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়। পরিবারের দাবি, থানায় নেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
তবে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশ
রোববার দুপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম সাতজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে সেফহোমে পাঠানো হয়।
তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি
ঘটনার দুটি দিকই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একদিকে হাসপাতালে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি; অন্যদিকে প্রিন্সের অসুস্থ হওয়ার কারণ এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগও যথাযথ তদন্তের দাবি রাখে।
কোনো পক্ষের অভিযোগকেই তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
