odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 6th November 2026, ৬th November ২০২৬
বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন আহমদ; চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন

সব নাগরিকের প্রধান পরিচয় ‘বাংলাদেশি’, ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু বলার সুযোগ নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২০ October ২০২৬ ২৩:৪২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২০ October ২০২৬ ২৩:৪২

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের প্রধান পরিচয় ‘বাংলাদেশি’—এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে অভিহিত করার সুযোগ নেই। বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে। ধর্মীয় পরিচয় যেন কারও অধিকার, নিরাপত্তা কিংবা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ মহল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কেবল ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে গত নির্বাচনে দেশের মানুষ সেই ধারণার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অতীতে ক্ষমতার মোহে বিভিন্ন স্থানে উপাসনালয় ও সম্পত্তি দখল এবং সহিংসতার রাজনীতি হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা জনগণ সফল হতে দেয়নি। অর্পিত সম্পত্তি বেদখল এবং মন্দির-সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; কাজের মাধ্যমে সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, উপাসনালয়ের নিরাপত্তা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী এ লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্য অতিথিরা।