odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 7th November 2026, ৭th November ২০২৬
বাবার জন্মদিনে নয়, ২৪ অক্টোবর ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা; কেক কাটার পুরোনো পারিবারিক ছবিসহ পোস্ট ঘিরে কৌতূহল!

৬ জানুয়ারি জন্মদিন, অক্টোবরে ‘হ্যাপি বার্থডে’—প্রয়াত নাজমুল হুদাকে নিয়ে অন্তরার পোস্টে প্রশ্ন❓

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ October ২০২৬ ১৭:২২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ October ২০২৬ ১৭:২২

অনলাইন  প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জন্মদিন ৬ জানুয়ারি। অথচ তাঁর মেয়ে অন্তরা সেলিমা হুদার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পোস্টে বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। পোস্টে লেখা, “Happy Birthday to my Abbujaan ❤️”। সঙ্গে রয়েছে বাবা-মায়ের জন্য কোরআনের একটি দোয়া এবং নাজমুল হুদার কেক কাটার কয়েকটি পারিবারিক ছবি।

পোস্টটির সময় ও বক্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে—জন্মদিন জানুয়ারিতে হলে অক্টোবরের শেষ দিকে কেন বাবাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন অন্তরা হুদা?

 স্ক্রিনশটে যা দেখা যাচ্ছে

স্ক্রিনশটে Antara S Huda পোস্টটির নিচে প্রায় ৪ হাজার প্রতিক্রিয়া, ৩০৩টি মন্তব্য ও ৪৯টি শেয়ারের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে।

অন্তরা হুদার ‘Antara S Huda’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশটে পোস্টটির সময় ‘1d’ বা এক দিন আগে দেখানো হয়েছে। পোস্টে বাবার জন্মদিনের শুভেচ্ছার পাশাপাশি লেখা হয়েছে, ‘রব্বির হামহুমা কামা রব্বায়ানি সগীরা’—যা বাবা-মায়ের প্রতি দয়া কামনার কোরআনিক দোয়ার অংশ।

ছবিগুলোর একটিতে নাজমুল হুদাকে কেকের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। অন্য ছবিগুলোতেও পরিবারের সঙ্গে তাঁর মুহূর্ত রয়েছে। স্ক্রিনশটে পোস্টটির প্রতিক্রিয়া, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যাও দেখা যাচ্ছে।

তবে ছবিগুলো ঠিক কোন বছরের জন্মদিনে তোলা, তা শুধু স্ক্রিনশট দেখে নিশ্চিত করা যায় না। একইভাবে, পোস্টটি পুরোনো ছবি দিয়ে নতুন করে স্মৃতিচারণ, বিলম্বিত জন্মদিনের শুভেচ্ছা, নাকি অন্য কোনো ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে—সেটিও স্পষ্ট নয়।

জন্মদিন ৬ জানুয়ারি, মৃত্যু ১৯ ফেব্রুয়ারি

Antara S Huda র pind kora post o tai bole

সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জন্ম ১৯৪৩ সালের ৬ জানুয়ারি। তিনি ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। 

তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের একজন ছিলেন। ১৯৯১–১৯৯৬ সালে তথ্যমন্ত্রী এবং ২০০১–২০০৬ সালে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন

এ কারণে তাঁর জন্মদিন ও মৃত্যুর তারিখ নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মেয়ের সাম্প্রতিক পোস্টের সময়ের পার্থক্যটি পাঠকের কৌতূহল তৈরি করতে পারে।

কেন অক্টোবরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা?

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে অন্তরা হুদার বক্তব্য অথবা পোস্টটির অতিরিক্ত প্রেক্ষাপট প্রয়োজন। ফেসবুকে পোস্টটি এক দিন আগে প্রকাশিত হয়েছে—এ তথ্য থেকে শুধু প্রকাশের সময় বোঝা যায়; পোস্টটি দেওয়ার কারণ জানা যায় না।

অন্তরা হুদা কি বাবার পুরোনো জন্মদিনের স্মৃতি নতুন করে সামনে এনেছেন? নাকি পোস্টটির পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক উপলক্ষ রয়েছে? এ বিষয়ে তাঁর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

 রাজনৈতিক অঙ্গনে স্মরণ নিয়ে প্রশ্ন

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা দীর্ঘদিন দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। 

অন্তরা হুদার পোস্টে বাবার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ স্পষ্ট। কিন্তু অক্টোবরে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর কারণ এবং ছবিগুলোর সময়কাল নিয়ে?

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর ভূমিকা যেমন আলোচিত হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার মূল্যায়নে এই পুরো প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

সময়ের সঙ্গে কি আড়ালে চলে যাচ্ছে রাজনৈতিক স্মৃতি?

রাজনীতিতে জীবিত অবস্থায় যাঁদের ঘিরে আলোচনা, কর্মসূচি ও জনসমাগম দেখা যায়, তাঁদের মৃত্যুর পর স্মরণ ও মূল্যায়নের ধরন বদলে যেতে পারে। কারও অবদান দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকে, আবার কারও স্মৃতি সীমিত হয়ে পড়ে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের ব্যক্তিগত পরিসরে।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার জন্মদিন ঘিরে এবার তাঁর মেয়ের ভালোবাসার বার্তা সেই ব্যক্তিগত স্মৃতির দিকটি সামনে এনেছে।