odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 9th April 2026, ৯th April ২০২৬
প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য অনেক দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিলেও, একমুখী নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে তৈরি করছে বড় ধরনের ঝুঁকি

প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতি-নির্ভর অর্থনীতি: আশীর্বাদ নাকি দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৯ April ২০২৬ ০০:৫০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৯ April ২০২৬ ০০:৫০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

প্রাকৃতিক সম্পদ তেল, গ্যাস, খনিজ কিংবা মূল্যবান ধাতু যেকোনো দেশের অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রাতারাতি একটি দরিদ্র দেশকে বিশ্বমঞ্চে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে এই সম্পদ। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। অনেক দেশের ক্ষেত্রে এই বিশাল সম্পদই অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বের এমন ৩০টি দেশ রয়েছে যাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) একটি বড় অংশ সরাসরি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।

নির্ভরশীলতার ফাঁদ

অর্থনীতিবিদরা একে প্রায়ই ডাচ ডিজিজ (Dutch Disease) বলে অভিহিত করেন। যখন কোনো দেশ কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন অন্যান্য শিল্প খাত যেমন উৎপাদন বা সেবা খাত অবহেলিত থেকে যায়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম সামান্য কমলেই ওই দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।

তালিকার শীর্ষে যারা

প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জিডিপি-র শতাংশের ভিত্তিতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ। মূলত খনিজ তেল ও গ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই এদের অর্থনীতি টিকে আছে।

কুয়েত, লিবিয়া ও সৌদি আরব: তেলের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল এই দেশগুলো এখন তাদের অর্থনীতিকে বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে (যেমন: সৌদি ভিশন ২০৩০)।

কঙ্গো ও গিনি: মূল্যবান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ নাগরিকরা এই সম্পদের সুফল খুব কমই পাচ্ছেন।

প্রাকৃতিক সম্পদ নির্ভর অর্থনীতির প্রধান প্রভাবসমূহ

একটি দেশের অর্থনীতি যখন অতিমাত্রায় প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন মূলত তিনটি প্রধান সংকট তৈরি হয়:

অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক ঝুঁকি: এই দেশগুলোর জিডিপি সরাসরি বিশ্ববাজারের পণ্যের দামের ওপর নির্ভর করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বা খনিজের দাম সামান্য কমলেই পুরো জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামে।

শিল্পায়নের পথে অন্তরায়: সহজলভ্য সম্পদের দিকে বেশি ঝোঁক থাকায় এসব দেশে উৎপাদনমুখী শিল্প, আধুনিক কৃষি বা উন্নত প্রযুক্তি খাতের বিকাশ থমকে যায়। ফলে দেশটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে।

ক্রমবর্ধমান সামাজিক বৈষম্য: অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পদের বিশাল এই আয়ের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায় না। এই লভ্যাংশ মূলত উচ্চবিত্ত বা শাসক শ্রেণীর হাতে কুক্ষিগত থাকে, যা সমাজে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেয়।

উত্তরণের পথ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে যেসব দেশ তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে শিক্ষা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করেছে (যেমন: নরওয়ে), তারা এই নির্ভরশীলতার ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। কিন্তু যারা কেবল সম্পদের ওপর ভরসা করে বসে আছে তাদের জন্য ভবিষ্যৎ বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: