অধিকার পত্র ডটকম
মূল বডি
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরা মুবারশারের সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে কাজ শেষে নিজ বাড়ির পথে যাওয়ার সময় তার গাড়িকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গাজার কেন্দ্রীয় আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে হামলাটি চালানো হয়। হামলার পরপরই গাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই উইশাহর মৃত্যু হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে দেইর আল-বালাহর আল-আকসা মার্টার্স হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সহকর্মীরা জানান, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেও আল-শিফা হাসপাতালের কাছে অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে কাজ করছিলেন উইশাহ। দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি সহকর্মীদের কাছে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অসংখ্য সাংবাদিক, স্বজন ও সাধারণ মানুষ। সহকর্মীরা জানান, তার মৃত্যুতে গাজাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং একই সঙ্গে ক্ষোভও বাড়ছে।
উইশাহ ১৯৮৬ সালে গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৮ সালে আল জাজিরা মুবারশারে যোগ দিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন করে আসছিলেন।
সহকর্মী তালাল আল-আরুকি বলেন, উইশাহ শুধু একজন সহকর্মীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যুদ্ধকালীন সময়ে অনেক সাংবাদিক তার পরামর্শের ওপর নির্ভর করতেন।
অন্যদিকে, গাজায় কর্মরত সাংবাদিক আবদুল্লাহ মিকদাদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, জবাবদিহিতার অভাব থাকায় এ ধরনের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৬০ এর বেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
আল-জাজিরার

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: