odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 26th April 2026, ২৬th April ২০২৬
প্রাচীন ত্রিরত্নের পথে আধুনিক শিক্ষার পুনর্বিন্যাস: অহিংসা থেকে অনেকান্তবাদ, জীব থেকে মোক্ষ—কী শেখায় জৈন দর্শন?

জৈনদর্শন ও শিক্ষা ব্যবস্থা: ত্রিরত্ন, পঞ্চ মহাব্রত ও অনেকান্তবাদ — প্রাচীন জ্ঞানের আধুনিক ক্লাসরুমে প্রয়োগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৬ April ২০২৬ ২০:২৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৬ April ২০২৬ ২০:২৯

অধিকারপত্র শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক

`জীব আর অজীবের এই অবিরাম খেলা, কর্ম আর মোক্ষের অনন্ত বৃত্ত—কীভাবে জৈন দর্শন আজকের শিক্ষার্থীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে মুক্তির পথে?` খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের কঠোর তপস্যা আর গভীর ধ্যান থেকে উঠে আসা জৈনদর্শন শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের গ্রন্থিই ছেদন করেনি; গড়ে তুলেছে এক অনন্য শিক্ষাব্যবস্থা। সম্যক জ্ঞান, সম্যক দর্শন ও সম্যক চরিত্র—এই ত্রিরত্ন আজকের শিক্ষাঙ্গনের জন্য হয়ে উঠতে পারে নৈতিকতা ও মানসিক বিকাশের ভিত্তি। আর পঞ্চ মহাব্রত—অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ—শিক্ষার্থীকে তৈরি করে দায়বদ্ধ, সংযত ও সৃজনশীল নাগরিক হিসেবে।একবিংশ শতাব্দীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার স্পেস ও প্রতিযোগিতার বাজারে দাঁড়িয়ে অনেকান্তবাদ শিক্ষায় আনে বহুমাত্রিক চিন্তার দক্ষতা। আর অনীশ্বরবাদ ও কর্মবিচার তুলে দেয় দায়বদ্ধতার পাঠ—ভাগ্য নয়, কর্মই তোমার ভবিষ্যৎ। রণদীপম বসুর ‘হরপ্পা’-র জৈনদর্শন ধারাবাহিক ও প্রাচীন জৈন সূত্রের আলোকে রচিত এই ফিচারটি তুলে ধরেছে—কীভাবে প্রাচীন জৈন বিদ্যাপীঠ আজকের হোলিস্টিক এডুকেশনের আদর্শ হতে পারে। পড়ুন প্রাচীন জ্ঞানের সেই আধুনিক প্রয়োগের কাহিনি, যা বদলে দিতে পারে শিক্ষার পুরোনো চৌহদ্দি।

সে এক প্রাচীনকালের কথা, যখন গঙ্গার উত্তরা কূলে আর গিরিপথের শ্যামল বুকে গভীর ধ্যানে মগ্ন সন্ন্যাসীরা অনুসন্ধান করতেন জীবনের চিরন্তন সত্য। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের সেই সন্ধিক্ষণে, যখন উপনিষদীয় চিন্তাধারা বৈদিক জটিলতায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল, তখন উত্তর ভারতের প্রান্তরভূমি থেকে আবির্ভূত হয় এক নতুন দর্শন—জৈনদর্শন। মহাবীরের কঠোর তপস্যা ও গৌতম বুদ্ধের প্রজ্ঞাদীপ্ত পথ ভারতীয় চিন্তাজগতে এনে দিল অভিনব এক আধ্যাত্মিক আন্দোলন।

 দর্শনের পথে শিক্ষার আলো

জৈন দর্শন শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের গ্রন্থি ছেদন করেনি, গড়ে তুলেছে এক অনন্য শিক্ষাব্যবস্থা। ঋষি কুণাদ কুণাদ, উমাস্বাতি ও অন্যান্য জৈন আচার্যদের সূত্রধারা আজও বহন করে চলেছে সেই জ্ঞানপিপাসার শিখা। জৈন শিক্ষার মূলভিত্তি স্থাপিত হয়েছে ত্রিরত্ন মোক্ষমার্গে—সম্যক দর্শন, সম্যক জ্ঞান ও সম্যক চরিত্র। (ঘটনা সূত্র: জৈনদর্শন: পর্ব-০৮)

এই ত্রিরত্ন আজকের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক উজ্জ্বল দিশারি। সম্যক জ্ঞান বলতে কেবল পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু আয়ত্ত করাকে বোঝায়নি, বোঝাত সঠিকভাবে দেখার, জানার ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা। জৈনাচার্যদের মতে, অজ্ঞানই বন্ধনের মূল কারণ—আজকের পরিভাষায় বলা চলে, অশিক্ষা বা কুশিক্ষা মানবসমাজকে আবদ্ধ রাখে সংকীর্ণতার শৃঙ্খলে।

 পঞ্চ মহাব্রত: চরিত্র গঠনের মূলমন্ত্র

জৈন দর্শনে শিক্ষার দ্বিতীয় স্তম্ভ হচ্ছে সম্যক চরিত্র, যার ভিত্তি পাঁচটি মহাব্রত:

প্রথমত, অহিংসা—পরম সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই নীতি জৈন শিক্ষার প্রাণ। অহিংসা শুধু প্রাণীহত্যা থেকে বিরত থাকা নয়, বরং বাক্যে, মনে ও কর্মে সকল প্রকার হিংসার অনুভূতি পরিহার করা। আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় যখন বুলিং, সাইবার হুমকি ও মানসিক নির্যাতন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গ্রাস করছে, তখন এই অহিংসা ব্রত হয়ে উঠতে পারে শিক্ষাঙ্গনের শান্তি স্থাপনের মূলমন্ত্র।

দ্বিতীয়ত, সত্য (সম্যক বাক্য)—সত্য বলার ব্রত শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক দায়বদ্ধতা জাগিয়ে তোলে। জৈন দার্শনিকরা মনে করতেন, কটু সত্য না বলা কিংবা মিথ্যাকে সুন্দর করে বলা নয়, বরং যা কল্যাণকর ও সত্য, তাই বলাই প্রকৃত ব্রত।

তৃতীয়ত, অস্তেয়—অর্থাৎ চুরি না করা। আজকের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে কেবল বস্তু চুরি নয়, বরং ধারণা চুরি (প্লেজিয়ারিজম), পরীক্ষায় অসদুপায়, অন্যায়ভাবে সুযোগ দখল—সবকিছুই অস্তেয় ব্রতের পরিসরে পড়ে। জৈনশিক্ষায় বলা হয়েছে, নিজের পরিশ্রমের ফল নিজে ভোগ করা এবং অন্যের অধিকারকে সম্মান জানানো উচিত।

চতুর্থত, ব্রহ্মচর্য—ইন্দ্রিয় সংযম ও শক্তির সঠিক ব্যবহারের শিক্ষা। এটি কেবল যৌন সংযম নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মনে ধ্যান, পাঠ ও সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশের ক্ষমতা তৈরির শিক্ষা।

পঞ্চমত, অপরিগ্রহ—সংগ্রহের অবসান। ভোগের এই বাজারে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম আজ কেবল সংগ্রহের নেশায় পাগল। জৈন শিক্ষার এই ব্রত শিক্ষা দেয়—যা দরকার, তাই গ্রহণ করো; অনাবশ্যক জমিয়ে রেখে সীমিত সম্পদকে অসীমের কলুষিত করো না। (বিস্তারিত সূত্র: জৈনদর্শন: পর্ব-০৭ ও ০৮)

 জীব ও অজীবের ক্লাসরুম

জৈন দর্শনের তত্ত্ব বলছে, জীব (চৈতন্যশীল) ও অজীব (জড়)—এই দুই সত্তা জগৎকে ব্যাখ্যা করে। জৈন শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীকে শেখায় নিজের অন্তরের জীব—অর্থাৎ চেতন সত্তা—কে বাইরের অজীবের আবরণ থেকে কীভাবে মুক্ত করা যায়। আজকের পরিভাষায় একে বলা যায় ‘আত্ম-উন্নয়ন’ বা ‘মাইন্ডফুলনেস’।

আকাশ, ধর্ম, অধর্ম, কাল ও পুদ্গল—এই পাঁচটি অস্থায়ী অজীব (অজীব তত্ত্ব) সত্তা শিক্ষার্থীকে বোঝায় যে, জড় জগৎ কখনোই চিরন্তন নয়। প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয় যখন মানুষ জড় ও চেতনের পার্থক্য উপলব্ধি করে। আজকের বিজ্ঞানমনস্ক যুগে শুধু প্রকৃতির রহস্য উদঘাটনই নয়, বরং নিজের চেতনের অলিগলি বেয়ে অনন্তের সন্ধানও একান্ত জরুরি—এই শিক্ষাই জৈন শিক্ষাব্যবস্থার মূলমন্ত্র। (সূত্র: জৈনদর্শন: পর্ব-০৫ ও ০৬)

 অনীশ্বরবাদ ও মুক্তির পাঠ

জৈন দর্শনের আর এক চমকপ্রদ দিক অনীশ্বরবাদ। জৈনাচার্যদের মতে, ঈশ্বর কোনো স্বতন্ত্র স্রষ্টা বা শাসক নন; বরং প্রতিটি আত্মাই সম্ভাব্যভাবে ঈশ্বর সমান। ‘সব আত্মা পরমাত্মা হবার পথযাত্রী’—এই বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের চরম আত্মবিশ্বাস ও দায়বদ্ধতা জাগায়। জৈন শিক্ষায় কেউ বলে না, ‘ঈশ্বর যা চান’; বরং বলে, ‘তুমি যা করো, তার ফল তুমি পাবে’। কর্মবিচার নামে এই তত্ত্ব শিক্ষার্থীদের কর্মের দায়বদ্ধতা শিক্ষা দেয়, ভাগ্যের ওপর চাপাচাপি নয়।

অর্থাৎ, আজকের ক্লাসরুমে আমরা যদি জৈন শিক্ষার এই পথ অনুসরণ করি, শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে—তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে তাদের কঠোর পরিশ্রম, নৈতিকতা ও সংকল্প, কোনো অলৌকিক বাহ্যিক শক্তি নয়। (সূত্র: জৈনদর্শন: পর্ব-০৯)

 বন্ধন ও মুক্তি: শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য

প্রাচীন জৈন গ্রন্থ ‘তত্ত্বার্থধিগমসূত্র’-এ উমাস্বাতি বলেছেন, ‘জীব, অজীব, আস্রব, বন্ধ, সংবর, নির্জরা ও মোক্ষ’—এই সাত তত্ত্ব দর্শনের মেরুদণ্ড। আস্রব মানে কর্মের প্রবেশ, বন্ধ মানে আবদ্ধ হওয়া, সংবর মানে নিয়ন্ত্রণ, নির্জরা মানে কর্মের ক্ষয়, আর মোক্ষ মানে চূড়ান্ত মুক্তি। আজকের শিক্ষাব্যবস্থা কী শিক্ষার্থীদের বন্ধনমুক্ত করে? পরীক্ষার চাপ, কর্মস্থলের অনিশ্চয়তা, সম্পর্কের জটিলতা—সব যেন এক বিরাট অভিভাবক, শিক্ষক ও ছাত্রের মানসিক বন্ধনের কারণ।

জৈন শিক্ষা বলছে—প্রকৃত বিদ্যালয় সেই, যে বিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ‘সংবর’ (নিয়ন্ত্রণ) ও ‘নির্জরা’ (নেতিবাচকতার ক্ষয়) শেখায়। শিক্ষক সেই, যে শুধু তথ্য দেয় না, বরং সঠিক চিন্তার কাঠামো তৈরি করে দেয়, যার দ্বারা শিক্ষার্থী নিজেই নিজের বন্ধন ছিঁড়ে মুক্তির পথে যাত্রা করতে পারে। (সূত্র: জৈনদর্শন: পর্ব-০৭)

 আজকের শিক্ষাঙ্গনে জৈন প্রয়োগ

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে বিশ্ব যখন চিৎকার করে বলছে ‘হোলিস্টিক এডুকেশন’, ‘ইথিক্যাল লার্নিং’, ‘ভ্যালু এডুকেশন’, তখন জৈন দর্শন হাজার বছর আগে সেই তত্ত্বকে ব্যবহারিক রূপ দিয়েছিল।

প্রথমত, জৈন দার্শনিকরা অনুপ্রেক্ষা (ধ্যান ও পুনরাবৃত্ত চর্চা)-র ওপর জোর দিয়েছেন। আজকের নিউরোসায়েন্স বলছে, বারবার কোন কিছু চর্চা ও ধ্যান মস্তিষ্কের তারকাঠামো বদলে দেয়। জৈন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আত্মমগ্ন চর্চার মাধ্যমে ‘সম্যক জ্ঞান’ অর্জনের যে পন্থা অবলম্বন করত, তা আজকের মাইন্ডফুলনেস থেরাপির মতোই ফলপ্রসূ।

দ্বিতীয়ত, জৈন গুরুকুল ব্যবস্থা ছিল বিকল্প আধুনিক বিদ্যালয়ের এক বিস্ময়। সেখানে শিক্ষক (আচার্য) শুধু পাঠদান করতেন না, বরং শিষ্যের চারিত্রিক গঠনের জন্য সশরীরে ছিলেন। আধুনিক প্যারেন্টিং ও টিচার ট্রেনিংয়ে যাকে ‘রোল মডেল’ ও ‘হোলিস্টিক মেন্টরিং’ বলা হয়, জৈন ব্যবস্থায় তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিল।

তৃতীয়ত, জৈন মতে সাত বা নয়টি তত্ত্ব—জীব, অজীব, পুণ্য, পাপ, আস্রব, সংবর, নির্জরা, বন্ধ ও মোক্ষ—শুধু দার্শনিক শ্রেণিবিন্যাস নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ সিলেবাস, শিক্ষার্থীকে পৃথিবী ও নিজেকে জানার জন্য। প্রতিটি তত্ত্বকে ‘পদার্থ’ বলা হয়, যার পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল প্রাচীন জৈন বিদ্যাপীঠগুলিতে। (সূত্র: জৈনদর্শন: পর্ব-০৫)

 বর্তমান প্রেক্ষাপটে জৈন নীতিবোধ

বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জৈন সম্প্রদায় চালিয়ে যাচ্ছে ‘জৈন দর্শন ও শিক্ষা সমিতি’, ‘প্রাচীন জৈন পাঠাগার’, ‘ই-লার্নিং পোর্টাল অন জৈনিজম’-এর মতো উদ্যোগ। দিল্লি, কলকাতা, মুম্বই থেকে লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক—সর্বত্র জৈন স্টাডিজ সেন্টার শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ‘অহিংসা’, ‘অপরিগ্রহ’ ও ‘অনেকান্তবাদ’-এর বাণী।

একবিংশ শতাব্দীর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনোম এডিটিং, সাইবার স্পেসের যুগে, অনেকান্তবাদ (Anekantavada)—জিনের সেই অমৃততত্ত্ব—শিক্ষার্থীদের শেখায় দেখা অনেক দিক থেকে সত্যকে উপলব্ধি করা। ‘সত্য একাধিক কোণ থেকে দেখলে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে’—এই ধারণা আধুনিক শিক্ষায় ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচের মূলে অবস্থিত।

 শেষ কথা: প্রাচীন পুঁথি, ভবিষ্যৎ শিক্ষা

জৈন দর্শন কোনো ধ্বংসপ্রাপ্ত পাণ্ডুলিপি নয়। এটি এক জীবন্ত স্রোতধারা। ‘হরপ্পা’ ব্লগের কথক রণদীপম বসু তাঁর ধারাবাহিক লেখায় ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে জৈন দর্শনের প্রতিটি শাখাপ্রশাখা—জীব ও অজীব, অনীশ্বরবাদ, কমবিচার, ত্রিরত্ন, পঞ্চ মহাব্রত—শুধু প্রাচীন মঠ-মন্দিরের বাণী নয়, বরং সমসাময়িক প্রজন্মের জন্য এক শিক্ষার দর্শন।

আজকের ক্লাসরুম যদি একটি অণু জৈন বিদ্যাপীঠও হতে পারে—যেখানে শিক্ষার্থী শেখে কীভাবে নিজের ক্রোধ, মান, লোভ ও মায়া নামক কুপ্রবৃত্তিগুলোকে জয় করতে হয়; শেখে অহিংস বাক্য, সহাবস্থানের সৌন্দর্য, সীমিত সম্পদে সার্থক জীবন; শেখে প্রতিটি প্রাণী একই চৈতন্যপথের যাত্রী—তবে সেই শিক্ষাই সার্থক। জৈন দর্শনের মূল বাণী—‘পরস্পরোপগ্রহো জীবানাম্’-এ কথা চিরকাল সত্য: জীব একে অপরের পরস্পর সহায়, পরস্পর নির্ভরশীল। সেই বোধটুকু আজকের শিক্ষার সর্বাগ্রে থাকা দরকার।

দশ বছর বয়সী এক শিশু যদি শিখে অহিংসার অর্থ, ব্রহ্মচর্যের মাধ্যমে মনঃসংযত হওয়া, অপরিগ্রহের পথে বাস্তব সুখ উদ্ধার—তবে জৈন দর্শন আর কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা থাকে না; হয়ে ওঠে বিশ্বমানবতার পাঠশালার বাইবেল। প্রাচীন সূত্রে কথিত আছে, ‘সম্যগ্জ্ঞানমৃতং প্রাপ্য, মোহান্ধকারং তরন্তি জীবা।’—অর্থাৎ সম্যক জ্ঞান নামক অমৃত পেয়ে জীব মোহান্ধকার পেরিয়ে যায়। সেই সম্যক জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হোক প্রতিটি শিক্ষাকেন্দ্র, প্রতিটি মনের অলিন্দ। 

তবেই সার্থক জৈন দর্শন। তবেই সার্থক মননের উৎসব।

 অধ্যাপক মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

#জৈনদর্শন ও শিক্ষা ব্যবস্থা#জৈনদর্শন #Jainism #JainEducation #ত্রিরত্ন #পঞ্চমহাব্রত #অহিংসা 

#অপরিগ্রহ #সম্যকজ্ঞান #অনেকান্তবাদ #নিরীশ্বরবাদ #কর্মবিচার #ভারতীয়দর্শন #হোলিস্টিকএডুকেশন #প্রাচীনশিক্ষা #আধুনিকশিক্ষা #মোক্ষমার্গ #জীবঅজীব #বন্ধনমুক্তি #BanglaFeature #PhilosophyInEducation #RanadipamBasu #হরপ্পা #EthicalLearning #MindfulEducation 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: